
বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ভেদুরিয়া গ্রামের ছালাম মুন্সীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে মুলাদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক আসামিকে আটক করে। তবে তাকে থানায় নেওয়ার সময় ট্রলার থেকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাতকড়া উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও আহতদের অভিযোগ, মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের স্থানীয় নেতা মো. আলো খান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা বাচ্চু খানের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ সালাম মুন্সীর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ২৫-৩০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং তিনটি বসতঘর ভাঙচুর করে লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় সালাম মুন্সী, সজল মুন্সী, কালু মুন্সী, কালাম মুন্সী, জহির মুন্সী, রাশিদা বেগম, ফাতেমা বেগম, মীম আক্তার ও সুমাইয়া আক্তারসহ ১০ জনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে তাদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন আলো খান ও তার সহযোগীরা। প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাচ্চু খান হামলার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত আলো খানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।