বরিশাল কোতয়ালী থানায় দায়ের করা জিআর ৯৪৩/২১ (১চঠ৩৭) মামলার একই পিজিআইডি (১৭ঐঝই) ব্যবহার করে দুই ভিন্ন ব্যক্তিকে আসামি করার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। শুধু নামের আংশিক মিল থাকার কারণে এক নির্দোষ ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা—সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—একটি মামলার একই পিজিআইডিতে কীভাবে দুই ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং দুই ধরনের কাগজ কীভাবে তৈরি হলো?
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখার পাম্প অপারেটর মো. নিলয় পারভেজ (রুবেল) জানান, শুধুমাত্র নামের আংশিক মিল থাকায় তাকে একটি ফৌজদারি মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রাথমিক তদন্তেই জানা গেছে, মামলার প্রকৃত আসামির সঙ্গে তার পরিচয়, ঠিকানা বা পারিবারিক তথ্যের কোনো মিল নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মামলার প্রকৃত আসামি পারভেজ হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি। তার সঙ্গে নিলয় পারভেজ (রুবেল)—এর শুধু “পারভেজ” অংশটি মিল রয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো তথ্যগত মিল পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত চলাকালে প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত করতে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এসআই মো. শহিদুল ইসলাম নামের আংশিক মিল দেখে যথাযথ যাচাই ছাড়া নিলয় পারভেজ (রুবেল)—কে সন্দেহভাজন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন।
পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে মামলার নথিপত্র পুনরায় যাচাইয়ের দাবি ওঠে। যাচাই—বাছাইয়ে দেখা যায়, প্রকৃত আসামির সঙ্গে নিলয় পারভেজ (রুবেল)—এর কোনো সম্পর্ক নেই।
ভুক্তভোগী নিলয় পারভেজ (রুবেল) বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আইজিপি (সিকিউরিটি সেল)—এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরেও পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে শুধুমাত্র নামের একটি অংশের মিল ছাড়া অন্য কোনো তথ্যগত মিল নেই।
ঘটনার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪১/২০২২ এবং প্রসিডিং নম্বর ০৫—২২/৫৪৪০। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে এসআই মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, পারভেজ হাওলাদার ও নিলয় পারভেজ রুবেল একই ব্যক্তি। তিনি দাবি করেন, রিপোর্ট লেখার সময় কম্পিউটার অপারেটরের ভুলে পিজিআইডি নম্বর পরিবর্তন না হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আদালতে আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো জটিলতা থাকার কথা নয়।
স্থানীয়রা জানান, নিলয় পারভেজ (রুবেল) একজন দিনমজুর পরিবারের সন্তান এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। তারা দাবি করেন, নামের আংশিক মিলের কারণে একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হয়েছে।
চাঁদমারী এলাকার ব্যবসায়ী হাসান বলেন, “যার সঙ্গে নামের মিল, সেই পারভেজ হাওলাদারকে নিলয় পারভেজ কখনো দেখেনি। পিতা—মাতা, ঠিকানা, বয়স—কোনো কিছুই মেলে না। তাহলে তাকে কীভাবে আসামি করা হলো?”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র নামের মিলের ভিত্তিতে কাউকে আসামি করা আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনা বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
নিলয় পারভেজ (রুবেল) বলেন,“আমি নির্দোষ হয়েও মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবার সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি চাই প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এমন ভোগান্তির শিকার না হয়।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং প্রাথমিক তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।