
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানাধীন আন্ধারমানিক ইউনিয়নে এক সালিশি বৈঠকে মা ও ছেলেকে বেদম মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে আহতরা হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লিটন সিকদার ও তার স্ত্রীর পারিবারিক কলহ মীমাংসার জন্য একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ভুক্তভোগী সখিনা বেগম অভিযোগ করেন, বৈঠক চলাকালে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিক তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সখিনা বেগমের ওপর হামলা চালান এবং মারধর শুরু করেন।
এ সময় মাকে রক্ষা করতে ছেলে এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উপস্থিত স্থানীয়রা আহত মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ওই পরিবারটি মাদকের সাথে জড়িত। তাই আমি ওদের ইচ্ছামতো মেরে আহত করেছি।” আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওরা যা পারে আমার বিরুদ্ধে করুক।”
উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে কাজীরহাট থানা ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ জানান বিষয়টি আমি মোবাইলের মাধ্যমে শুনতে পেরেছি আমি তাদেরকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বলেছি।ভূক্তভূগি লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত স্বাপেক্ষ্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।