
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনও তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) “ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে তদন্তে নামে।
উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি—করিমবাজার খালের ওপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ব্রিজটি পরিদর্শন করেন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় শতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি অভিযোগের সত্যতা পান।
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার ব্রিজের ঢালাইয়ের সময় উত্তর পাশের শেষ অংশে রডের সঙ্গে বাঁশের কঞ্চি যুক্ত করে ঢালাই করা হয়। এ কাজটি করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এলজিইডি প্রকৌশলী তাৎক্ষণিকভাবে ব্রিজটির ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পরই উপজেলা প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে তাকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রিজটির মূল কাঠামো বিগত অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের ১ শতাংশ অর্থায়নে নির্মাণ করা হলেও ঢালাই করা হয়নি। চলতি অর্থবছরে ঢালাইয়ের জন্য আবেদন এলেও কোনো সরকারি অনুমোদন বা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নিজ উদ্যোগে এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন এবং শেষাংশে এসে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করেন।
ইউএনও আরও জানান, বাঁশ ব্যবহারের ফলে ব্রিজটির কাঠামো ও ঢালাই যথেষ্ট মজবুত হয়নি। তাই ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলে সরকারি নিয়ম মেনে পুনরায় ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।