
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানবিক কারণে কম দামে ওষুধ বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে “প্রগতি মেডিকেল হল” নামের একটি ফার্মেসি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে সমিতির আল্টিমেটামের পর দোকানটি বন্ধ রাখা হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে অসহায় এক ভিক্ষুক একটি ভিটামিন সিরাপ কিনতে প্রগতি মেডিকেল হলে যান। প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় দোকানটির পরিচালক সুদীপ্ত পাল মানবিক বিবেচনায় সিরাপটি মাত্র ১০০ টাকায় দেন। এ ঘটনাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে সমিতির নেতারা একদিনের জন্য ফার্মেসি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ ওঠে। নির্দেশ অমান্য করলে বড় অঙ্কের জরিমানার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সুদীপ্ত পাল বলেন, “একজন অসহায় মানুষকে সহায়তা করতেই কম দামে ওষুধ দিয়েছি। কিন্তু এ কারণে দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলাপাড়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল। তিনি দাবি করেন, “সমিতি কোনো দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেয়নি। প্রগতি মেডিকেল হল ভেজাল ওষুধ বিক্রির দায় স্বীকার করে নিজেরাই একদিনের জন্য দোকান বন্ধ রেখেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সহানুভূতির কারণে ওষুধ দিতে চাইলে সেটি বিনামূল্যে দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তারা টাকা নিয়েছে।”
অন্যদিকে, কলাপাড়ার আরেক ফার্মেসি “ফাতেমা মেডিকেল হল”-এর মালিক মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, সমিতির পক্ষ থেকে আগে তার কাছ থেকেও প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ওষুধের এমআরপি বেশি থাকায় আমরা অনেক সময় কম দামে বিক্রি করতে চাই। কিন্তু সমিতি এতে বাধা দেয়।”
একাধিক ফার্মেসি মালিক অভিযোগ করেছেন, সমিতির মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সমিতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেলে জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থায় তারা সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক বলেন, “কোনো সমিতি বা সংগঠনের কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা সিলগালা করার আইনগত ক্ষমতা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”