আদালতে দায়ের করা মামলা এবং ১৪৪/১৪৫ ধারার নির্দেশ অমান্য করে অন্যের জমি জবরদখল করে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে পাকা বিল্ডিং নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় জমির প্রকৃত মালিক বাঁধা প্রদান করায় ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করা হয়েছে।
প্রভাবশালীদের হাত থেকে নিজের ক্রয়কৃত জমি ফেরত পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জমির মালিক মো. নুর হোসেন তালুকদার। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ গ্রামের।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নুর হোসেন তালুকদার জানিয়েছেন, ওই এলাকার শাহ আলম তালুকদার গং ও মোতালেব তালুকদারের কাছ থেকে ১৯৭৯ সালে তিনি ৩.৩০ শতক জমি ক্রয় করেছেন। পরবর্তীতে কর্মের সুবাধে তিনি দীর্ঘ ২৯ বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, এরইমধ্যে তার ক্রয় করা ওই জমি দখল করে নিয়েছেন প্রতিবেশী আজিজ আকনের ছেলে শয়ন আকন। দখল করা জমিতে সৌদি প্রবাসী শয়ন আকন তার লোকজন দিয়ে অতিসম্প্রতি পাকা দালান ঘর নির্মানের কাজ শুরু করেন। এসময় তিনি (নুর হোসেন) নির্মান কাজে বাঁধা প্রদান করে জমির কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। কিন্তু ওই সালিশ বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে শয়নের নিকট আত্মীয়রা ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে পাকা বিল্ডিংয়ের নির্মান কাজ অব্যাহত রাখেন।
নুর হোসেন তালুকদার আরো বলেন, উপায়অন্তুর না পেয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়েরসহ ওই জমির ওপর ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা জারি করান। পরবর্তীতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিল্ডিং নির্মানের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পরেও প্রবাসী শয়নের ভাড়াটিয়া লোকজনে দিন—রাত সমানভাবে নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিষয়টি জানতে পেরে তিনি (নুর হোসেন) ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্মান কাজে বাঁধা প্রদান করায় প্রবাসী শয়নের ভাড়াটিয়া লোকজনে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাননাশের হুমকি প্রদর্শন করে। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো সত্বেও তারা রহস্যজনক কারনে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই শয়ন তার ভাড়াটিয়া লোকজনের সহযোগিতায় দখল করা জমিতে নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছে। ফলে ক্রয়সূত্রে জমির মালিক নুর হোসেন তালুকদার তার নায্য অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শয়ন আকন প্রবাসে থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রবাসী শয়নের মা কহিনুর বেগম জানিয়েছেন, কারো জমি দখল করে নয়, তার ছেলে শয়নের ক্রয়কৃত জমিতে পাকা দালান নির্মান করা হচ্ছে। কাউকে হুমকির অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে বিরোধীয় জমিতে নির্মানাধীন পাকা দালানের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরেও যদি কেউ নির্মান কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে সেই অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।