পিরোজপুরের জিয়ানগরে ৭৫ ব্যারেল চোরাই বিটুমিন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে জিয়ানগর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার সেউতিবাড়ীয়া গ্রামের ইবাদুল কবির বাদল হাওলাদারের বাড়ি থেকে এ বিপুল পরিমাণ বিটুমিন উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এসআই মো. ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে জিয়ানগর থানার পুলিশ সেউতিবাড়ীয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইবাদুল কবির বাদল হাওলাদারের বাড়ি থেকে ৭৫ ব্যারেল পরিত্যক্ত বিটুমিন উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এগুলো প্রায় এক মাস ধরে সেখানে পড়ে ছিল।
বাড়ির মালিক বাদল হাওলাদার জানান, তিনি ঢাকায় থাকেন। তার বাড়িতে কে বা কারা এ বিটুমিন রেখে গেছেন তা তিনি জানেন না।
এর আগে, গত ৪ এপ্রিল পুলিশ বাদল হাওলাদারের সেজো ভাইয়ের ছেলে মেসার্স পলাশ এন্টার প্রাইজের মালিক ও ঠিকাদার শাকিল মাহমুদ পলাশ হাওলাদারের কাজের সাইড থেকে ৫৯ ব্যারেল চোরাই বিটুমিন উদ্ধার করে। তখন ঝালকাঠি জেলা সদরের শ্যাডো কনস্ট্রাকশনের মালিকের মামলার সূত্র ধরে সিসিটিভির ফুটেজ থেকে শনাক্ত করা ট্রাক চালকের তথ্যমতে ওই চোরাই বিটুমিন উদ্ধার করা হয়েছিল। বর্তমানে উদ্ধার করা ৭৫ ব্যারেল বিটুমিনও পলাশ হাওদারের হতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করেছেন।
বিটুমিন এর বিষয়ে পলাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিটুমিনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কে বা কারা কখন রেখে গেছে তা আমার জানা নেই। আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর জন্য এখানে আমার নাম ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।
জিয়ানগর থানার এসআই সাইদুর রহমান জানান, সেউতিবাড়ীয়া গ্রামের ইবাদুল কবির বাদল হাওলাদারের বাড়ির ভেতর অনেকদিন ধরে ৭৫ ব্যারেল বিটুমিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। আমরা বাড়ির মালিকের কাছে বিটুমিন সম্পর্কে জানতে চাইলে বাড়ির মালিক বাদল জানান, তিনি বিটুমিন সম্পর্কে কিছু জানেন না তার কিছু জানা নেই। আমরা বিটুমিন উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনেকেই তাদের সঙ্গে বিটুমিনের মালিকানা নিয়ে যোগাযোগ করেছেন। উপযুক্ত মালিকানা কাগজপত্র পেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের মাল বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ঝালকাঠী সদর, রাজাপুর, বরগুনার বেতাগী ও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থানায় বিটুমিন চুরির বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার বাদীরা উক্ত বিটুমিনের মালিকানা দাবি করছে বলেও জানান জিয়ানগর থানা পুলিশ।