হৃদরোগে আক্রান্ত ৫৫ বছরের স্ত্রীকে বাঁচাতে চায়- বরিশাল নগরীর সংবাদপত্র বিক্রেতা দুলাল রায় (৮২)। প্রায় চার যুগ ধরে পত্রিকা বিক্রি করে জমানো টাকা স্ত্রীর চিকিৎসায় ব্যয় করেছেন। এখনও কয়েক মাস পরপর স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি 'ব্যবস্থাপত্রানুযায়ী' ঔষধ কিনতে হয়। একদিকে সংসারের খরচ, অন্যদিকে স্ত্রীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বর্তমানে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে দুলাল। সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা অথবা স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় বহন কেউ করবে, - মনে এমন আশা নিয়ে সমাজের মহৎ ও দানশীলদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
দুলালের সাথে কথা বলে জানা যায়, জীবনের শুরু থেকেই মানবেতর জীবন যাপন করে আসছেন। তিনি বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের মৃত পরেশ রায়ের ছেলে। স্ত্রীর বাড়িও একই উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের শাসনামলে নদী ভাঙনের সময় গ্রাম ছেড়ে শহরে আসেন।
নগরীর ৮ নং ওয়ার্ড, দপ্তর খানা, সাবেক সেলিম কমিশনারের ভাড়ার বাসায় বসবাস করতে শুরু করেন এবং পত্রিকা বিক্রি করে সংসারের খরচ বহন করতেন। সংসারে একমাত্র সন্তান উজ্জ্বল রায় (৩০) নিজ ইচ্ছায় ঢাকায় বিয়ে করার পর থেকে মা-বাবার খোঁজ নেন না।
দুলাল বলেন, বাসা ভাড়া দিয়ে দুই জনে খাবার পর আয়ের কোনো টাকা থাকে না। সংসারে আরো অভাব লেগেই থাকে। এরমধ্যে আবার ৩ মাস আগে ধরা পড়েছে স্ত্রীর হৃদরোগ। পত্রিকা বিক্রি করে তিল তিল করে জমানো প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়ে গেছে। এখন সমাজের কোনো মানুষ এগিয়ে না আসলে আমার স্ত্রী চোখের সামনে "ধুকে ধুকে মরবে," বৃদ্ধ বয়সে তা সহ্য করতে পারবো না।
তিনি (দুলাল) নিঃস্বার্থভাবে দরিদ্র, অসহায় ও অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সমাজের মহৎ ও দানশীলদের কাছে সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেছেন।