
বরিশাল নগরীর নতুবাজার এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে রামকৃষ্ণ মিশনের বিপরীত পাশের ফুটপাতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলছে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এনামুল হাসান তাসনিমের নামে একটি রাজনৈতিক ব্যানার। ফুটপাতের মাঝ বরাবর নিচু করে টানানো এই ব্যানারের কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি হওয়ায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ শত শত মানুষ এই ফুটপাত ব্যবহার করেন। কিন্তু ব্যানারটি এমনভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে যে পথচারীদের মাথা নিচু করে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় অসাবধানতাবশত ব্যানারে মাথা লেগে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যানারটির কারণে ফুটপাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ কষ্ট করে ব্যানারের নিচ দিয়ে পার হচ্ছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়কে নেমে চলাচল করছেন। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
পথচারী মো. আব্দুল দুলাল মিয়া বলেন, “বরিশাল শহরের অধিকাংশ ফুটপাত এখন দখল হয়ে গেছে। কোথাও দোকান, কোথাও ব্যানার, কোথাও অবৈধ স্থাপনা। সাধারণ মানুষের হাঁটার জায়গা নেই। এই ব্যানারটিও আমাদের চলাচলে বড় সমস্যা তৈরি করেছে।”
সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ফুটপাতের ওপর ব্যানার ও দোকানের কারণে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।”
সচেতন মহলের মতে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে ফুটপাত দখল, ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা এখন নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। এতে যেমন নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মো. রেজাউল করিম রনি বলেন, “আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্য, মানুষের ভোগান্তির জন্য নয়। কোনো নেতাকর্মীর ব্যানারের কারণে জনসাধারণের অসুবিধা হলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। ব্যানারটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
অভিযুক্ত মো. এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, “আমি মনে করি জায়গাটি পুরোপুরি ফুটপাত নয়। তবে যদি মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করব।”
বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, “ব্যানার নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচি বা শুভেচ্ছা বার্তার জন্য টানানো হলেও সময় শেষে তা সরিয়ে ফেলা উচিত। অন্যথায় নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং জনভোগান্তি বাড়ে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, “নগরী থেকে অবৈধ ব্যানার, ফেস্টুন ও সাইনবোর্ড অপসারণে কাজ চলছে। কোথাও এমন কিছু থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নগরবাসীর প্রত্যাশা, সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাত দ্রুত দখলমুক্ত করা হবে এবং রাজনৈতিক ব্যানারের নামে জনভোগান্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।