
বরগুনার তালতলী উপজেলায় সাবেক সরকারের আমলে রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য এসআই মেহেদী ও হাসানের পদোন্নতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তালতলী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার পরিবারকে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। অথচ এখন তাদের পদোন্নতি দেওয়ায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
হাফিজুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রায় ১৫ দিন আগে রাতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে তার বাবাকে গ্রেফতার করেন এসআই মেহেদী ও হাসান। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে আনতে হয়। এর আগেও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, ভয়ভীতি ও গালিগালাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “যারা বিগত সময়ে বিএনপি ও বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের পদোন্নতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ হচ্ছে, আর নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদীরা দলে প্রাধান্য পাচ্ছে।”
ছাত্রদল ও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামে নিবেদিত কর্মীদের অংশগ্রহণ ও আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
হাফিজুর রহমান কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অতীতে নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এর সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ চায় ভূক্তভুগি পরিবার।
তবে দুই পুলিশ সদস্য বর্তমানে বরিশাল পুলিশ লাইনে আর এফ এফ লাইনে পদন্নোতিতে সংযুক্ত আছেন