পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় টানা দুই দিনের প্রবল বজ্রপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ে পায়রা বন্দরসহ গোটা উপকূলীয় জনপদে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। বিরামহীন বজ্রপাতে অন্তত ২৯ খামারির অর্ধশতাধিক গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকরা দাবি করেছেন। এতে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গবাদিপশু বিক্রির স্বপ্ন দেখা বহু খামারি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও তীব্র বজ্রবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মিঠাগঞ্জ, বালিয়াতলী, তারিকাটা, মধুখালী, কমরপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা। মাঠে বাঁধা অবস্থায় থাকা গরুগুলো মুহূর্তেই বজ্রপাতে মারা যায়।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আজিমদ্দিন গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন খান জানান, তার প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের গাই গরুটি বজ্রপাতে মারা গেছে। একইভাবে তারিকাটা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, দক্ষিণ বালিয়াতলীর ইব্রাহিম হাওলাদার, বালিয়াতলীর হাবিবুল্লাহ, রিফিউজিপাড়ার শাহিদা বেগম, মধুখালীর আনেচ খান, এনায়েত তালুকদার ও কমরপুরের নূর হোসেনসহ বহু কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ জানান, এখন পর্যন্ত ২৩ কৃষকের ২৯টি গরু বজ্রপাতে মারা যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক কৃষক এখনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানাননি।
অন্যদিকে একই ঝড়ে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ও সলিমপুর গ্রামে অন্তত ৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে শত শত গাছপালা উপড়ে পড়ে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নবাবগঞ্জ গ্রামের মন্নান বয়াতি, মরিয়ম, মাধব এবং সলিমপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও গবাদিপশু হারানো কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও ঢেউটিন প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু না হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আরও বড় সংকটে পড়বে। কলাপাড়ার উপকূলীয় জনপদে একদিনের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষক সমাজের জন্য এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।