কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সঙ্গে হওয়া বজ্রপাতে বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের বেশিরভাগই কৃষক, জেলে ও দিনমজুর—যারা জীবিকার তাগিদে খোলা আকাশের নিচে কাজ করছিলেন। এ ঘটনায় এক জেলে নিখোঁজ থাকার খবরও মিলেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়, যেখানে চারজনের মৃত্যু হয়েছে পৃথক ঘটনায়। রাঙ্গাবালীতে সকালে গরু বাঁধতে গিয়ে মারা যান সৌরভ মজুমদার (২২)। কলাপাড়ায় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় প্রাণ হারান জহির উদ্দিন (২৮)। একই এলাকায় গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং গরু নিয়ে ফেরার পথে খালেক হাওলাদার (৫৫) নিহত হন। এ জেলায় বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গবাদিপশুও মারা গেছে।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় দুটি পৃথক ঘটনায় নিহত হন দুজন। নদীতে মাছ ধরার সময় শামীম মিয়া (৩৫) এবং সড়ক নির্মাণকাজে যুক্ত থাকা অবস্থায় সাগর ইসলাম (১৮) বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার পর মো. স্বাধীন (২৫)—এর মরদেহ পরে মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়, যার শরীরে বজ্রপাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া ধানের মাঠ থেকে হাঁস আনতে গিয়ে আয়েশা বেগম (৫০) মারা যান। একই এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
বরগুনায় মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিহত হন কৃষক নূরজামাল (৫৪) ও জেলে আল—আমিন। তাদের পরিবারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ীতে মেয়েকে কোলে নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে বজ্রাঘাতে মারা যান সুমন মন্ডল (৩৫)। তবে শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়।
ময়মনসিংহে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সাদ্দাম হোসেন (২৮), রংপুরে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে সাহেরা বেগম (৪০), শরীয়তপুরে নদীতে মাছ ধরার সময় রাজিব শেখ (৩২) এবং বাগেরহাটে গরু আনতে গিয়ে রবিন হাওলাদার (৫৩) বজ্রপাতে নিহত হন।
প্রশাসন কয়েকটি জেলায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় কাজ করা থেকে বিরত থাকা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা জরুরি, বিশেষ করে কালবৈশাখী মৌসুমে ঝুঁকি বেশি থাকে।