বসতঘরে নেমপ্লেট স্থাপনের কাজ না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে উকিল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। টিপিডিও নামের একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ও স্থানীয় প্রেসক্লাবের সদস্য মোহাম্মদ আলী বাবু ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরন দাবি করে বরিশাল জজকোর্টের এক আইনজীবীর মাধ্যমে উকিল নোটিশ প্রদান করেছেন।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, পৌরসভায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসাবাড়িতে নেমপ্লেট স্থাপনের জন্য গত এক বছর পূর্বে জনসেবা ডেভলপমেন্ট সোসাইটি ও টিপিডিও নামের স্থানীয় দুইটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) আবেদন করেন।
আবেদনের পর যাচাই-বাছাই শেষে চলতি বছরের মার্চ মাসে পৌরসভার মাসিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জনসেবা ডেভলপমেন্ট সোসাইটিকে নেমপ্লেট স্থাপনের অনূকুলে রেজুলেশন পাশ করা হয়।
নেমপ্লেট স্থাপনের জন্য নাগরিকদের বাধ্য করা যাবেনা এবং ২৫০ টাকার অধিক নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না সহ আরো বেশকিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে এসব শর্ত মেনে নিয়েই ওই এনজিও গত এক সপ্তাহ পূর্বে কাজ শুরু করেন।
অভিযোগ করে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নেমপ্লেট স্থাপনের কাজ না পেয়ে টিপিডিওর নির্বাহী পরিচালক ক্ষিপ্ত হয়ে শুনেছি পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে।
আমরা পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই নোটিশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
জনসেবা ডেভলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান আকবর বলেন, আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে নেমপ্লেট স্থাপনের কাজটি আমাকে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পৌর কর্তৃপক্ষের সকল শর্ত মেনে নিয়ে কাজ শুরু করেছি। কাজ শুরুর পর থেকে কাজ না পাওয়া টিপিডিওর নির্বাহী পরিচালক ও তার লোকজনে বিভিন্নভাবে আমাকে হয়রানি করে আসছে।
আমার সাথে না পেরে সর্বশেষ পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে বলে শুনেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, পৌরসভার মাসিক সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিতে শর্তসাপেক্ষে নেমপ্লেট স্থাপনের কাজ একটি এনজিওকে দেওয়া হয়। এতে অপর একটি এনজিও কাজ না পেয়ে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার শুরু করেছে।
নোটিশটি ভিত্তিহীন দাবি করে পৌর প্রশাসক বলেন, নোটিশের সাথে কোন ধরনের প্রমানক সংযুক্ত নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আলোচনায় আসার উদ্দেশ্যে এমন কাজ করে থাকতে পারেন। এই ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কে আমি চিনি না। এটি পৌরসভার কোন টেন্ডার বা প্রকল্প নয়। এমনকি এই কাজের সঙ্গে পৌরসভার কোন আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
তিনি আরও বলেন, এটি একটি ব্যক্তি টু ব্যক্তি পর্যায়ে ড্রিল। পৌরসভা যে কাউকে অনুমতি দিতে পারে। তাছাড়া কোন ব্যক্তি ন্যায় বঞ্চিত হলে সে তো দেখা করে অভিযোগ জানাতে পারে। আমরা প্রতিকার দিবো। এখানে উকিল নোটিশ দেয়ার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা।
এবিষয়ে বেসরকারি সংস্থা টিপিডিওর পক্ষের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, আমার মক্কেলের পক্ষে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে ২৮ এপ্রিল গৌরনদী পৌর প্রশাসককে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।