
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে ব্যক্তি মালিকানায় অবমুক্ত করা, সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা এবং দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো:খলিলুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে ০১/২০২৪ নম্বর বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর। তদন্ত শেষে তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত তলববাকী (২ নম্বর) রেজিস্টারে হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গের নামে অবৈধভাবে হোল্ডিং খুলে দেন। এতে সরকারি স্বার্থ উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে কাজ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে।
এছাড়া, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃজিত না হওয়া সত্ত্বেও ওই পদবির নাম ব্যবহার করে সরকারের ১ নম্বর খতিয়ানের ২৫৮ দশমিক ২৬ একর জমি সংক্রান্ত নোট প্রদান এবং উৎকোচ বা সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে পাওয়া যায়। এতে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কানিবগা তপ্তচর—২৮ মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ২২২ একর জমি কোনো অনুমোদন ছাড়াই ১৩৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে নোট প্রদান করে ব্যক্তি মালিকানায় খতিয়ান সৃষ্টির মাধ্যমে অবমুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় একই নামজারির বিপরীতে ভিন্ন ভিন্ন আদেশের তারিখ উল্লেখ করে দুটি পৃথক খতিয়ান সৃষ্টির বিষয়েও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
বিভাগীয় তদন্তে দেখা যায়, অভিযুক্তের অনুমোদন করা ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭টি দাখিলার মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮—এর বিধি ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি সম্পত্তি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার জন্য হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।