
হেন্দিগঞ্জে উলানিয়া ইজারাদারদের বাদিং ফি অতিরিক্ত নেওয়া নেওয়া কেন্দ্র করে লঞ্চমালিক ও ঘাট ইজারাদারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। বাড়তি ফি না দেওয়ায় লঞ্চ আটকে রাখা, কর্মকর্তা—কর্মচারীদের ঘাটে নামিয়ে রাখাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ ছাড়তে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
লঞ্চমালিক ও ঘাটসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সদরঘাট থেকে ভোলা ইলিশা পর্যন্ত চলাচলকারী লঞ্চগুলো নিয়মিত মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া ইউনিয়নের কালীগঞ্জ ঘাটে ভেড়ে এবং যাত্রী ওঠানামা করে। এত দিন লঞ্চের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী বার্দিং বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা করে নেওয়া হলেও চলতি মাসের শুরু থেকে তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।
ঢাকা—কালীগঞ্জ—ইলিশা নৌপথে চলাচলকারী এমভি কর্ণফুলীর ব্যবস্থাপক কামাল উদ্দিন বলেন, এ রুটে প্রতিদিন অন্তত ২০টি লঞ্চ চলাচল করে। চলতি মাসের শুরু থেকে কালীগঞ্জ ঘাটে বার্দিং ফি ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকার নির্ধারিত বার্দিং ফি এর তুলনায় এই আদায় অনেক বেশি।
ঘাট সূত্র জানায়, বাড়তি ফি দিতে রাজি না হওয়ায় গত মঙ্গলবার এমভি কর্ণফুলী—১৪—এর ব্যবস্থাপক লিটনকে লঞ্চ থেকে নামিয়ে ঘাটে রাখা হয়। বুধবার সকালে এমভি কর্ণফুলী—৪ বাড়তি ফি না দেওয়ায় প্রায় আধা ঘণ্টা ঘাটে আটকে রাখা হয়। পরে লঞ্চের একজন কেরানিকে নামিয়ে আটকে রাখার পর লঞ্চটি ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমভি রাজারহাট—বি লঞ্চের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, আগে কালীগঞ্জ ঘাটে বার্দিং ফি ১ হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হতো। এখন ২ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। একইভাবে এমভি রাজারহাট, এমভি সম্পদ ও এমভি দোয়েল পাখি লঞ্চের ক্ষেত্রেও বাড়তি ফি নেওয়া হচ্ছে।
তবে ঘাটের ইজারাদারের অংশীদার মিল্টন চৌধুরী ও মো. মেরাজের দাবি, লঞ্চমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই বার্দিং ফি ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে ফি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তারা। লঞ্চ আটকে যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ অস্বীকার করে মেরাজ বলেন, লঞ্চ সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট বিলম্বিত হয়ে থাকতে পারে।
যাত্রীবাহী লঞ্চ ও জলযান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ—চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামরুজ্জামান লিটু বলেন, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে মালিক সমিতির আলোচনায় কালীগঞ্জ ঘাটে অতিরিক্ত বার্দিং ফি আদায়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। শর্ত ভঙ্গ করলে ইজারা বাতিল করা হবে—এমন সিদ্ধান্তও হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, ইজারাদার এভাবে এক লাফে বার্দিং ফি প্রায় দ্বিগুণ করতে পারেন না।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর বরিশালের বন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, কালীগঞ্জ ঘাটে বার্দিং ফি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সহনীয় পর্যায়ে সমাধান করতে হবে। এ জন্য উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে।: