
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানার আওতাধীন স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে অনিয়ম, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং কথিত ‘আটক বাণিজ্যের’ অভিযোগে একযোগে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে।
বদলিকৃত পুলিশ সদস্যরা হলেন— এএসআই বোরহান, এএসআই কাইউম, এএসআই আমিনুল, জামাল ও মেহেদী। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের নামে অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ জমা পড়ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত পাঁচ সদস্যকে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেডিসি কলোনির এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, “স্টিমারঘাট ফাঁড়ির এএসআই বোরহান, এএসআই কাইউম, এএসআই আমিনুল, জামাল ও মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে কেডিসি কলোনির মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন। তারা মূল মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সামান্য পরিমাণ গাঁজা কিনতে আসা যুবকদের আটক করতেন। পরে তাদের ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের ডেকে এনে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হতো।”
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও একাধিক সূত্রের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে সাধারণ মানুষকে আটক করে অর্থ আদায়ের একটি চক্র গড়ে উঠেছিল। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা নিরপরাধ ব্যক্তিদের আটক রেখে মামলার ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগে জড়িত ছিলেন। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে বিএমপির উপ—পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম বলেন, “পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে কোনো ধরনের অনিয়ম, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।