
পিরোজপুরের কাউখালী থেকে নেছারাবাদ, বানারীপাড়া ও গরিয়ারপাড় হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম সংক্ষিপ্ত ও ব্যস্ততম সড়কে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন। কাউখালী উপজেলা শহরের কচুয়াকাটি বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন সড়ক ঘেঁষে থাকা ভবনটির কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে নিয়মিত ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন চলাচল। পাশাপাশি বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখতে না পাওয়ায় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ভবনটির মালিক আব্দুল হক। ভবনটির চাল ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ ভেঙে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এর কিছু অংশ সড়কের দিকে ঝুঁকে থাকায় সড়কটির স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে গেছে। বিশেষ করে বেইলি ব্রিজ পার হয়ে মোড়ের কাছে পৌঁছালে ভবনটির কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগেভাগে দেখতে না পাওয়ায় চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, পিরোজপুর, খুলনা ও বরিশালসহ বিভিন্ন গন্তব্যে অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ব্যস্ততম সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে ভবনটি থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
একজন স্থানীয় বাসচালক বলেন, “বেইলি ব্রিজ পার হয়েই মোড় ঘেঁষে পুরনো ভবনটি থাকায় বিপরীত দিক থেকে গাড়ি এলে ঠিকমতো দেখা যায় না। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে এখান দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। কয়েকবার দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচেছি। দ্রুত ভবনটি সরানো না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এদিকে সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী এক পথচারী বলেন, “এটি শুধু যানবাহনের জন্য নয়, পথচারীদের জন্যও বড় ঝুঁকি। ভবনটির অংশ সড়কের দিকে চলে আসায় জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। দুই দিক থেকে গাড়ি এলে পথচারীদের নিরাপদে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবনটি অপসারণের জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একাধিকবার ভবন মালিক আব্দুল হককে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ভবনটি অপসারণ করা হয়নি। ফলে ভবন মালিকের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়—এমন প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
তবে ভবন মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জানা গেছে, ভবনটি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মামলা চলমান থাকলেও সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রয়োজনে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অপসারণ বা নিরাপদ করার ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতিদিনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।