, , ,
শিরোনাম
প্রকৃত আসামি প্রবাসে, নামে মিল থাকায় ২০ দিন কারাভোগ করলেন জলিল ভূমি সেবায় আস্থা ফেরানো এসিল্যান্ড মহেশ্বর মন্ডলের বদলি, হতাশ উজিরপুরবাসী সরকার ছয় মাসের মধ্যেই লাইনচ্যুত হয়ে গেছে: সারজিস আলম নেছারাবাদে সমবায় সমিতির নামে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সাজাপ্রাপ্ত বিশ্বজিৎ গ্রেপ্তার কুয়াকাটায় ২০ দোকানে তালা: জমি বিরোধের আড়ালে দখলের লড়াই, প্রশ্নের মুখে রাজনৈতিক প্রভাব অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা হচ্ছে, থাকবে কিউআর কোড ও রুট নির্ধারণ পিরোজপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড এআই দিয়ে ভুয়া র‍্যাব কর্মকর্তা সেজে কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’, যুবক গ্রেফতার সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেমিনার অনুষ্ঠিত পিরোজপুরে অস্ত্র, গুলি ও গাঁজাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার
যাত্রীসংকটে জমজমাট লঞ্চঘাট এখন প্রাণহীন

যাত্রীসংকটে জমজমাট লঞ্চঘাট এখন প্রাণহীন

Reporter
প্রতিবেদক : অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

ভোলা খেয়াঘাট। জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের এই ঘাট থেকে একসময় ভোলা—ঢাকাগামী যাত্রীবাহী আটটি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করত। এটি ছিল একসময় পুরো জেলার একমাত্র লঞ্চঘাট। কিন্তু লঞ্চ ও ঘাটকর্মীদের সেই হাঁকডাক, যাত্রীদের ব্যস্ততা, জৌলুশ—সব হারিয়েছে সবার কাছে পরিচিত ভোলা খেয়াঘাট।

এই ঘাট থেকে ঢাকাগামী দুটি লঞ্চ চলাচল করলেও যাত্রীসংকটের কারণে লোকসান হচ্ছে জানিয়ে গত ৫ জুলাই থেকে তা বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। ফলে এই খেয়াঘাটে কোনো লঞ্চ না আসায় সুনসান নীরবতা নেমে এসেছে।

বর্তমানে সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে ভোলা—ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো চলাচল করছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল করছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে ভোলা খেয়াঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ভোলা—ঢাকাগামী যাত্রীবাহী কোনো লঞ্চ নোঙর করা নেই। টার্মিনাল যেন সুনসান নীরব। নেই আগের মতো ঘাটশ্রমিকদের হাঁকডাক। একেবারেই নিস্তব্ধ।

বিআইডব্লিউটিএ, ঘাট ইজারাদার, ঘাটশ্রমিক, শ্রমজীবী মানুষসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরশিফলী গ্রামে তেঁতুলিয়া নদীসংলগ্ন খালপাড়ে গড়ে ওঠে ভোলা খেয়াঘাট। ২০০৪ সালে ভোলা খেয়াঘাট জেলার প্রথম ও একমাত্র লেবার হ্যান্ডেলিং পয়েন্ট হিসেবে ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএ। এই ঘাট থেকে যাত্রীবাহী ৮টি লঞ্চে জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন ঢাকা যাতায়াত করেছে।

ঘাটশ্রমিক মো. জসিম বলেন, ‘লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় এখানকার শতাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী কাজের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন।’

ভোলা খেয়াঘাট লেবার হ্যান্ডেলিংয়ের ইজারাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর ভাই খোকন জানান, তাঁরা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে খেয়াঘাট ইজারা নিয়েছেন। ঘাট ইজারা নেওয়ার পর এই ঘাট থেকে মাত্র পাঁচ দিন ভোলা—ঢাকা রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ আবে জমজম—৩ ও এমভি কর্ণফুলী—৯ লঞ্চ চলাচল করছিল। কিন্তু বর্ষার অজুহাতে লঞ্চ দুটি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাধ্য হয়ে ইজারার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য গত ১৭ জুলাই বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, ‘লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইজারাদার তাঁর ইজারার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেছেন।’

কর্ণফুলী—৯ লঞ্চ ভোলার ব্যবস্থাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘যাত্রীসংকটের কারণে আমাদের লোকসান হচ্ছে। তাই আপাতত ভোলা খেয়াঘাট থেকে ঢাকায় আমাদের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।’

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost