
বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কেডিসি এলাকায় চিহ্নিত এক মাদক কারবারি দম্পতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রুনু (রেনু) নামে ওই নারীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা থাকলেও তার স্বামী মধু এখনও কার্যকর আইনি ব্যবস্থার বাইরে থেকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভোরের দিকে কেডিসি এলাকায় মাদক বিক্রির সময় স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল মধুকে ধাওয়া করে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সঙ্গে থাকা গাঁজা ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাতেনাতে আটক হলেও তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা না করে তুলনামূলক লঘু ৮১ ধারায় চালান দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ শাওন অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে গুরুতর অভিযোগ আড়াল করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই কর্মকর্তাকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার (উইথড্র) করা হলেও মধুর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, রুনুর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা থাকা সত্ত্বেও এবং মধু পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় কেডিসি এলাকায় মাদক ব্যবসা আরও বিস্তার লাভ করেছে। এতে তরুণ সমাজের মধ্যে মাদকের প্রভাব বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের দাবি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বৈষম্যহীন ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে কেডিসি এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তবে পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান প্রতিনিয়ত অব্যাহত আছে।কাউকে ছার দেওয়া হবে না।আর কোন পুলিশ কর্মকর্তা যদি মাদক ব্যবসায়ীদের সাহায্য করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।