
বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবায় বিলম্ব এবং ইসিজি টেকনিশিয়ানের অনুপস্থিতিতে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত এক ট্রলিম্যানকে দিয়ে ইসিজি করানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বাকেরগঞ্জ উপজেলার নুলুয়া গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী মোসা. ইতি বেগম (১৮) গত ৩০ আগস্ট নগরীর কালীবাড়ি রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে যমজ সন্তানের জন্ম দেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে দ্রুত শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
রোগীর স্বজন মো. শাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেন, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পার হলেও রোগী কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা পাননি। একপর্যায়ে চিকিৎসক ইসিজি করার পরামর্শ দিলে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ইসিজি টেকনিশিয়ান না থাকায় আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত ট্রলিম্যান ইব্রাহিম ইসিজি করেন এবং তিনিই রিপোর্ট প্রস্তুত করেন।
স্বজনদের দাবি, এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের কাছে জানতে চাইলে তারা ইসিজি টেকনিশিয়ানের অনুপস্থিতির কথা জানান। দক্ষ টেকনিশিয়ানের পরিবর্তে একজন ট্রলিম্যান দিয়ে স্পর্শকাতর পরীক্ষা করানোর প্রতিবাদ করলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ট্রলিম্যান ইব্রাহিম ও এক ব্রাদারের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরে হাসপাতালের ডিউটিরত আনসার সদস্য মো. আবু মুসা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার বিষয়ে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ইসিজি টেকনিশিয়ানের পরিবর্তে অন্য কোনো কর্মচারীকে দিয়ে ইসিজি করানো ঠিক হয়নি।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ও ব্রাদার উপস্থিত থাকলেও সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, জরুরি বিভাগে প্রায়ই রোগীরা এমন অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।