শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরুর দ্বিতীয় দিন থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারি মোকামগুলোতে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে রপ্তানিকারকরা ইলিশ কেনা বন্ধ রেখেছেন। তাদের দাবি, স্থানীয় বাজারে চড়া দামে ইলিশ কিনে সরকারের নির্ধারিত কম দামে রপ্তানি করলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া কলকাতার বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকায় ভারতীয় আমদানিকারকরা নতুন করে ইলিশ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
রপ্তানিকারকরা ইলিশ না কিনায় শুক্রবার পাইকারি মোকামে প্রতি মণ ইলিশের দাম কমেছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। তবে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। আগের মতোই দাম রয়ে গেছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি ১২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার বা এক হাজার ৫২৫ টাকা দাম। ৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে রপ্তানি শেষ করতে হবে।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এ মৌসুমে সাগর-নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ না থাকায় পাইকারি বাজারেই রপ্তানিযোগ্য (৬০০ গ্রাম বা তার বেশি) ইলিশের দাম ২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায়। রপ্তানি প্রক্রিয়ায় প্যাকেটিং ও পরিবহন খরচ যোগ হলে কেজিপ্রতি ১০০–১৩০ টাকা খরচ বাড়ে। ফলে নির্ধারিত দরে রপ্তানি করলে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, মৌসুমের শুরুতেই ব্যবসায়ীরা চোরাই পথে ভারতীয় বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ সরবরাহ করেছেন। সে কারণে বর্তমানে কলকাতায় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। ভারতের ব্যবসায়ীরা নতুন করে ইলিশ আমদানিতে আগ্রহী নন।
বরিশালের পোর্ট রোড মোকামের চারটি প্রতিষ্ঠান রপ্তানির অনুমতি পেলেও তারা ইলিশ কেনা বন্ধ রেখেছে। মাহিমা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক বাবর আলী বলেন, “রপ্তানি দরের তুলনায় মোকামে ইলিশের দাম অনেক বেশি। আবার কলকাতার বাজারে ইলিশের দাম কম, তাই রপ্তানি করলে লোকসান নিশ্চিত।”
একই পরিস্থিতি বরগুনার পাথরঘাটা মোকামেও। পাবনার সেভেন স্টার ফিশিং প্রসেসিং করপোরেশনের প্রতিনিধি কামাল হোসেন জানান, তাদের দুটি ট্রাক ইলিশ বেনাপোলে আটকে থাকার পর লোকসানের আশঙ্কায় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।
পোর্ট রোড মোকামে শুক্রবার ৭০০–৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৮৮০ টাকায়, যা রপ্তানি শুরুর প্রথম দিন ছিল ২ হাজার টাকা। এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ শুক্রবার বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২ হাজার ১৫০ টাকায়—যা বুধবারের তুলনায় ৫০ টাকা কম।
মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, “এ বছর ইলিশ আহরণের পরিমাণ দৃশ্যমান অনেক কম। মৌসুমের শুরু থেকেই দাম অস্বাভাবিক।” তিনি আরও জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই শুরু হতে পারে। এর মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে এ বছরের ভরা মৌসুম।
Leave a Reply