বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
ভোলার সড়কে আবারও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। আনন্দ আর হাসি নিয়ে আত্মীয়ের বাসা থেকে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেছে এক মা ও তার ছেলের। একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় মা–ছেলেসহ তিনজনের প্রাণ গেছে। একই দিনে পৃথক আরেকটি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক কলেজছাত্র।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা–চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজার এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ভোলা থেকে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশাকে সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
নিহতরা হলেন— তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শশীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা শিল্পী রাণী দাস, তাঁর ছেলে তুষার দাস এবং অটোরিকশাচালক নাসিম। নাসিম বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, গজারিয়া বাজার এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত শেষে বাড়ি ফেরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসটি অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি সড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ে। মুহূর্তেই নিভে যায় তিনটি তাজা প্রাণ। ঘটনাস্থলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ভোলা সদর ও লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে, একই দিনে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ঘটে আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনা। উপজেলার উদয়পুর রাস্তার মাথা এলাকায় অতিরিক্ত গতির কারণে একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সোহাগ নামের এক কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী মারা যান।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তাঁর বন্ধু সিয়াম আহমেদ। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একদিনে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় ভোলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিরাপদ সড়ক ও দায়িত্বশীল যান চালনার দাবি নতুন করে জোরালো হচ্ছে। বারবার প্রশ্ন উঠছে— এভাবে আর কত প্রাণ ঝরবে সড়কে?
Leave a Reply