বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মহিব্বুলাহ হারুনের বিরুদ্ধে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বরগুনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার তাছলিমা আক্তারের কাছে লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন মো. ইব্রাহীম নামের বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বড় টেংরা এলাকার এক ব্যক্তি।
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মহিব্বুলাহ হারুন বরগুনা দারুল উলুম নেছারিয়া কামিল (এম.এ) মডেল মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত আছেন। বরগুনা—১ আসনে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তা প্রত্যাহার করেন।
লিখিত অভিযোগের একটি কপি এসেছে সময় সংবাদের হাতে। এতে উল্লেখ করা হয়, বরগুনা—২ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার সুলতান আহমেদের পক্ষে বিগত ইংরেজি ২৫/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখে বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় এমপিওভুক্ত বরগুনা আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মহিবুল্লাহ হারুন প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন এবং সরাসরি নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালান। উল্লেখ্য যে, মো. মহিবুল্লাহ হারুন একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি একটি নির্দিষ্ট প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক)—এর পক্ষে জনসভায় বক্তব্য প্রদান ও প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন, যা প্রচলিত নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আরও উল্লেখযোগ্য যে, তার স্থায়ী বাসস্থান বরগুনা সদর উপজেলায় হলেও তিনি বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা—২ সংসদীয় আসনে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচার ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই ধরনের কর্মকান্ড নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর ২০ (খ) ধারার পরিপন্থি, যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য। উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক মো. মহিবুল্লাহ হারুনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রয়োজনীয় তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সবিনয় আবেদন জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মো. ইব্রাহীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বরগুনা দারুল উলুম নেছারিয়া কামিল (এম.এ) মডেল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. মহিব্বুলাহ হারুন বলেন, ‘আমি শিক্ষকতা করি। বিগত ২০১৪ সালে আওয়ামী আমলে আমি ভাইস—চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। এই সংসদ নির্বাচনে আমি আমি প্রার্থী হয়েছি। প্রার্থীর বৈধতা হয়েছে। আমি প্রচারণা চালিয়েছি। প্রত্যাহারের দিনে আমি আমার দলীয় নির্দেশনাক্রমে প্রত্যাহার করেছি। নির্বাচন করতে পারলাম, নির্বাচিত হতে পারলাম। আমি এমপিওভুক্ত শিক্ষক, আমি দলীয় সভায় বক্তৃতা দিতে পারব না, এটা আমার জানা নেই। আর এটা আমার বেলায় হওয়ার কথা না, কারণ আমি নিজেই প্রার্থী ছিলাম।’
Leave a Reply