শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন
ভোলায় মালেরহাট কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকা দিতে যাওয়ার সময় মাকে অচেতন করে ৩ মাসের শিশুকন্যাকে অপহরণের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে— শিশুটিকে অপহরণ করা হয়নি। খালা তাকে নিয়ে গেছে। শিশুটি তার খালার কাছে রয়েছে। ঢাকার সদরঘাটে শিশু ও তার খালাকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় ভোলা জেলা সদরের পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চরপাতা গ্রামের চাকলাদার বাড়ির আব্দুর রবের স্ত্রী সুমিয়া বেগম তার শিশুকন্যাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে টানা ৯ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে শিশুটি তার খালার কাছে রয়েছে। নিঃসন্তান খালাতো বোনের জন্য শিশুটিকে দত্তক দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়— শিশুটিকে নিয়ে লঞ্চযোগে রাতে ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছলে পুলিশ ও কোস্টগার্ড তাদের আটক করে।
এদিকে শিশুটির মা সুমিয়া বেগম ও পিতা আব্দুর রবকে রাত ৭টায় ভোলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মোহম্মদ শহিদুল্লাহ কায়ছার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মো. ইব্রাহিম ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।
সকালে সুমিয়া বেগম জানান, ৩ মাসের শিশুকন্যা জিদনী বেগমকে টিকা দিতে ইউনিয়ন ক্লিনিকে যান। ক্লিনিকের কাছাকাছি গেলে এক বোরকাপরা নারী একটি দুইশ টাকার নোট সামনে ধরে জানতে চান এটি কত টাকার নোট। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় কোল থেকে শিশুকে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে চক্রটি। তবে ওই চক্র মোটরসাইকেলে পালিয়ে গেছে।
শিশু কন্যার খোঁজে মা সুমিয়া বেগম পাগলের মতো হা—হুতাশ করতে থাকেন। ক্ষণে ক্ষণে তিনি জ্ঞান হারান। মোবাইল ফোনে শিশুর ছবি দেখিয়ে বলতে থাকেন— তার জাদুকে (সন্তান) এনে দিতে। ওই নারীর তিন সন্তানের মধ্যে এটি ছোট।
ভোলা থানার ওসি তদন্ত মো. জিয়াউদ্দিন জানান, শিশুটির খোঁজে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। প্রত্যেক থানাকে অবহিত করা হয়।
এমন ঘটনা সুমিয়া বেগমের নাটক বলে মনে করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম।
Leave a Reply