বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে আবারও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী ইসলামী মিশনের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত এবং অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে গৌরনদী উপজেলার কসবা নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ঢাকা নিউমার্কেটের এলিফ্যান্ট রোডের আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে মো. ইলিয়াস হোসেন (৫৭) ও বরিশাল নগরীর বাসিন্দা মাইক্রোবাস চালক মো. রিপন। গুরুতর আহতরা হলেন- ঢাকার খিলক্ষেতের মো. মনিরুজ্জামান (৪০), মুরাদপুরের নুরুজ্জামান (৪২) ও বাগেরহাটের মোংলা এলাকার আব্দুল ওয়েজ (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রবাসে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে। অনেক সময় নিয়ম না মেনে ওভারটেকিং করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। টরকী ইসলামী মিশনের সামনের অংশে অতীতে একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, খুলনাগামী টেকেরহাট এক্সপ্রেসের সঙ্গে বরিশালগামী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইক্রোবাসের চালকসহ দুজন মারা যান।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড ও স্পিড ব্রেকার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক ভবিষ্যতেও প্রাণঘাতী সড়ক হিসেবে থেকে যাবে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
Leave a Reply