মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
বরগুনায় খাদ্যে ভেজাল ও ওজনে কারচুপি রোধে জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
পবিত্র রমজান সামনে রেখে শুক্রবার (৬ মার্চ) সংগঠনটির বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।
খাদ্যে ভেজাল ও ওজনে কারচুপি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো এবং পণ্য বিক্রির সময় কম ওজন দেওয়া শুধু ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণাই নয়, এটি মানবস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।
সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
এ উপলক্ষে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাউন্সেলিং করেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন করেন এবং পোস্টার প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রচারণা চালান। তারা ব্যবসায়ীদের নৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান এবং ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে ক্যানসার, কিডনি জটিলতা, লিভারের ক্ষতি, হৃদরোগসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দুধে পানি, মসলায় ক্ষতিকর রং, ফলে কেমিক্যাল এবং মাছ—মাংসে বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে বাজারজাত করছেন। অন্যদিকে ওজনে কম দেওয়া বা মাপে কারচুপি করা ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
পবিত্র রমজান মাসে অনুষ্ঠিত এ সচেতনতা কার্যক্রমে বক্তারা ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে ব্যবসা—বাণিজ্যে সততা ও ন্যায্যতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এ সময় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন— বসুন্ধরা শুভসংঘ বরগুনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকিব মাহমুদ, সহসভাপতি সাইদুর রহমান ও সামছুর রহমান, অর্থ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সদস্য আবুল হাসান, ফোরকানুল ইসলাম, সিফাত, জাফর মৃধা, সবুজ ও গোলাম মোস্তফা।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালের কণ্ঠ বরগুনা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বরগুনা প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম মেহেদীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
দৈনিক কালের কণ্ঠ বরগুনা প্রতিনিধি ও জেলা শুভসংঘের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ব্যবসা—বাণিজ্যে সততা, ন্যায্যতা ও বিশ্বস্ততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আল—কুরআনের সূরা আল—মুতাফফিফীন—এ বলা হয়েছে—ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মাপে কম দেয়; যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণ নেয়, আর যখন তাদের মেপে বা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। এই আয়াতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মাপে—ওজনে কম দেওয়া গুরুতর অপরাধ এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ।
জাহিদুল ইসলাম মেহেদী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ব্যবসায় সততা ও বিশ্বস্ততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
এক হাদিসে তিনি বলেছেন, সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে। অন্য হাদিসে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যে প্রতারণা করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ বরগুনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাকিব মাহমুদ বলেন, খাদ্যে ভেজাল ও ওজনে কারচুপি বন্ধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন। মসজিদ, মাদরাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে নিয়মিত আলোচনা ও প্রচারণা চালাতে হবে। অভিভাবকদেরও সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই সততা ও ন্যায্যতার শিক্ষা দিতে হবে।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, ভোক্তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পণ্য কেনার সময় ওজন যাচাই করা, সন্দেহজনক পণ্য পরিহার করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা জরুরি। ব্যবসায়ীদের মনে রাখতে হবে, সাময়িক লাভের আশায় প্রতারণা করে অর্জিত অর্থ দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ বয়ে আনে না।
বক্তারা বলেন, খাদ্যে ভেজাল ও ওজনে কম দেওয়া সমাজে অবিশ্বাস, অসুস্থতা ও অনৈতিকতার বিস্তার ঘটায়। তাই ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভেজালমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
Leave a Reply