মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
নেশার টাকা জোগাতে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে নিজের শ্বশুরবাড়িতে চুরির অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। নেত্রকোনার মদন পৌরশহরের শ্যামলী এলাকায় গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মধ্যবাজার এলাকার বাসিন্দা বরুণ চন্দ্র কর্মকার (৪৫) ও তার ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে মদন পৌরশহরের অমূল্য চন্দ্র দাসের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তরুণ চন্দ্র কর্মকারের। বিয়ের দুই মাস পর তরুণ তার স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে শ্বশুরালয়ে চলে আসেন। কিছুদিন পর তারা শ্বশুরের বাসার কাছেই শ্যামলী রোড এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এক পর্যায়ে তরুণ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, এক সপ্তাহ আগেও নেশার টাকা জোগাতে তরুণ ও তার বাবা মিলে শ্বশুর অমূল্য চন্দ্র দাসের বাসা থেকে লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার চুরি করেছিলেন। গতকাল রাতে পুনরায় একই উদ্দেশ্যে শ্বশুরের ঘরে চুরি করতে গেলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়।
চুরির বিষয়ে তরুণ চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘আমি আগে নেশা করতাম, এখন আর ইয়াবা খাই না। আমার বাবা এক সপ্তাহ আগেই শ্বশুরের ঘর থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করেছিলেন। এটা আমাদের ঠিক হয়নি।’
বাবা বরুণ চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘টাকার চাপের কারণে স্বর্ণালংকার চুরি করে বিক্রি করেছিলাম। কাজটি করা আমাদের ঠিক হয়নি।’
ভুক্তভোগী অমূল্য চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই নেশাগ্রস্ত। বিয়ের পর থেকে সে আমার মেয়ের সব স্বর্ণালংকার বিক্রি করে দিয়েছে। এখন আবার নেশার টাকার জন্য বাবা—ছেলে মিলে আমার ঘরে চুরি করেছে। এ ঘটনায় আমি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, ‘ঘটনাটি যেহেতু আত্মীয়দের মধ্যে ঘটেছে, তাই ভুক্তভোগী পরিবার প্রাথমিকভাবে কোনো অভিযোগ দেয়নি। তারা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আপস করার কথা জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Leave a Reply