মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন
ভোলার চরফ্যাশনের যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন থেকে বাস কাউন্টার ভেঙে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বাস শ্রমিকরা। জেলা সদরে প্রধান সড়ক অবরোধ করার নামে লাঠিসোটা নিয়ে তাণ্ডব চালায় তারা।
এ সময় জেলার ৬ উপজেলাগামী সব ধরনের যানবাহনগুলোকে ধাওয়া করার পাশাপাশি হামলা ও ভাঙচুর করে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমদাদুল হোসেন ও বিএনপি শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে যানজট নিরসনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাস কাউন্টার সরিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা বাসমালিক সমিতির সভাপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশ না মানায় প্রশাসনের তরফ থেকে বাস কাউন্টার ভেঙে দেওয়া হয়।
উপজেলা সদর রোড দিয়ে বাস চলাচল না করে, উপজেলার দুই প্রান্তের দুটি টার্মিনাল ব্যবহার করার নির্দেশ দেন ইউএনও। ওই নির্দেশ মানতে নারাজ বাসমালিক ও শ্রমিকরা।
বাস শ্রমিকরা জানান, সিএনজিচালিত ও অটোরিকশা চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই তারা জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
শ্রমিকরা বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডের সামনে জেলার প্রধান সড়ক অবরোধ করে লাঠিসোটা নিয়ে চরফ্যাশনগামী মাইক্রোবাস ও সিএনজি রিকশা চলাচলে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ধাওয়া করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খান জানান, শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলা সদরের রাস্তা দিয়ে বাস যেতে দিচ্ছে না সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ও মালিকরা। এদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কিছু নেতারাও জড়িত। তারাই মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রিত ডাইরেক্ট বাসের কাউন্টার ভেঙে দিয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা সদর থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস চরফ্যাশন উপজেলা সদর রোড হয়ে ওই উপজেলার মানিককাসহ কয়েকটি ইউনিয়নে চলাচল করত। ওই চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পেছনে স্থানীয় শ্রমিক দলের নেতারা জড়িত বলেও বাস মালিকরা অভিযোগ করেন।
অপরদিকে সিএনজি রিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাকসুদুর রহমান জানান, চরফ্যাশনের ঘটনায় সিএনজি রিকশা দায়ী নয়। উপজেলা সদরের যানজট কমাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সদর রোড দিয়ে বাস ও সিএনজি রিকসা চলাচল না করার নির্দেশ দেন। বাস চলাচল বন্ধ না করায় উপজেলা প্রশাসন সদর রোডের বাস কাউন্টার ভেঙে দেয়। বাস চলাচলে ট্রাফিক ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ অবস্থায় বাস মালিক ও শ্রমিকরা জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখে সিএনজি রিকশা চলাচলে বাধা দিচ্ছে। ভাঙচুর করেছে। সিএনজি রিকশা থেকে বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীদের টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। অনেক যাত্রী লাঞ্ছিত হন বলেও অভিযোগ করেন সিএনজি চালকরা।
Leave a Reply