শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ ৪২ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের আবেদন করা হলেও তা গ্রহণ করেননি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার সিএমএম আদালতে এ বিষয়ে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রধান আসামি করে মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে অভিযোগের বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আমলে নেননি।
এদিকে একই দিন জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে সক্রিয় অবস্থানে দেখা যায়। সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, দেশ এখন দুটি শক্তিতে বিভক্ত—একটি ফ্যাসিবাদের পক্ষে, অন্যটি বিপক্ষে। তিনি সংসদের ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান।
পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি সংক্ষিপ্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। ইংরেজিতে তিনটি শব্দে লেখা ওই স্ট্যাটাস—“Chuppu Must Go”—দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয় এবং ভাইরাল হয়ে পড়ে।
এর আগে গত ৪ মার্চ আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন উপদেষ্টা দায়িত্ব পান, যাদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি প্রথমে শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ ছাড়েন এবং পরে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করলে সেখানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুনের তথ্য অনুযায়ী তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা এবং দায় ২৮ হাজার ৬৬৯ টাকা।
প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৮৪৪ জন। অন্যদিকে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৪০০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
Leave a Reply