রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করতে ইসরায়েলকে এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানে নিকট ভবিষ্যতে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান—এ শাসন পরিবর্তন ঘটাতে হলে হয় সরাসরি স্থল সামরিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে, নয়তো দেশজুড়ে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের পুনরুত্থান ঘটতে হবে। তবে বর্তমানে এমন কোনো পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।
সূত্রটি আরও জানায়, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—এর মূল্যায়নে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন মূলত এই সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, তাদের সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম চড়ষরঃরপড়—এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এর প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু করার সময় এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে যথেষ্ট গভীর মূল্যায়ন করেনি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাতের প্রভাবকে কম করে দেখেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ৬০ সেন্ট বেড়ে গেছে, যদিও দেশটিতে তেলের উৎপাদন বর্তমানে রেকর্ড মাত্রায় রয়েছে। এতে ট্রাম্পের ঘোষিত “সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ” পরিকল্পনার সঙ্গে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।
বাজারের উদ্বেগ কমাতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত থেকে প্রায় ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার নির্দেশ দেন। তবে এর আগে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা বাজারকে তেমনভাবে স্থিতিশীল করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে আরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
Leave a Reply