সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চলতি বছরের ১৬ মার্চ সম্পন্ন হওয়া মাসিক সভার অফিসিয়াল মিটিং—এর আলোচনাকে সমালোচনার সৃষ্টি করে বিকৃত তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আইনি লড়াইয়ের প্রাথমিক ( লিগ্যাল নোটিশ) সূচনা ঘটেছে। অপরদিকে, সমালোচনার বিকৃত তথ্যের বিরুদ্ধে মাসিক মিটিং—এ উপস্থিত থাকা অর্ধশত প্লাস কর্মচারীরা একযোগে স্বাক্ষর করে পরিবার পরিকল্পনা বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ—এফপি) পদে ডা. বি. এম. সোলায়মান মাসুম যোগদানের পরই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে প্রতিপক্ষ তাকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে উঠে।
জানা গেছে, মেহেন্দিগঞ্জের বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা উম্মে হাবিবা ছন্দা ওরফে বিষাক্ত ছন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্তহীনতা। অফিসিয়াল কার্যক্রমের উম্মে হাবিবা ছন্দার বিরুদ্ধে থাকা অনিয়ম—দুর্নীতির অভিযোগের শুনানির পদক্ষেপ নিতে গিয়ে তার পরিকল্পিত রোষানলে পড়েছে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান মাসুম। নানা অনিয়মে যুক্ত থাকায় সহকর্মীরা পেছনে বসে ছন্দাকে বিষাক্ত ছন্দা বলে নাম সম্বোধন করে।
কর্মচারী ছন্দার বক্তব্য হলো— চলতি বছরের ১৬ মার্চ অফিসিয়াল মিটিং—এর সময় ডা. সোলায়মান মাসুম সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ, বিদ্বেষমূলক ও মর্যাদাহানিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন। যে বিষয় নিয়ে ছন্দার স্বামীসহ ৩ জনে মিলে গত ২৪—০৩—২৬ তারিখে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনজীবীর মাধ্যমে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন। মিটিং এর ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ছন্দার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ না করে পরবর্তীতে বন্ধ করে দেন। তবে কর্মচারী ছন্দাও কর্মকর্তার বিরুদ্ধেঅভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে সাংবাদিকদের নিয়ে কোনো আলোচনা বা সমালোচনা হয়নি বলে প্রতিবেদককে জানান— ঘটনার দিন মিটিং—এ থাকা কর্মচারী মো. আফফানুল হাসান রোকন, মহিউদ্দিন আহম্মেদ, নাজমা বেগম, সুলতানা রাজিয়া ও রাফিয়া নাসরিন। তারা বলেন, ছন্দার অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের শুনানির পরই পরিকল্পিতভাবে এ সব কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে কর্মকর্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে চায়। যাতে তার ভয়াবহ অপরাধগুলো ধামাচাপা পড়ে যায়।
ডা. সোলায়মান মাসুম বলেন, পরিদর্শিকা উম্মে হাবিবা ছন্দা পরিকল্পিতভাবে কূটকৌশলে ডিজিটাল ভার্সন ব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে কণ্ঠ নকল করে তার বিরুদ্ধে ওই সব আপত্তিকর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে ছড়াচ্ছে। তাছাড়া মিটিং—এ ৫৮ জন কর্মচারী উপস্থিত ছিল। আর মিটিং—এ সাংবাদিকদের নিয়ে কথাই উঠেনি। এ ঘটনার অনুকূলে মিটিং—এর কয়েকদিন পরই উম্মে হাবিবা ছন্দার অনিয়ম দুর্নীতি তুলে ধরে বরিশাল বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন করেন কর্মচারীরা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কর্মচারী উম্মে হাবিবা ছন্দার পক্ষে তার স্বামী মো. সাজ্জাদ হোসেন সহ তিনজনের দেওয়া নোটিশের যুক্তিগত জবাব ০২—০৪—২৬ তারিখে দেওয়ার পাশাপাশি গত ০৬—০৪—২৬ তারিখে নোটিশ দাতা পূর্বের ৩ জনকে সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আইনজীবীর মাধ্যমে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন ডা. সোলায়মান মাসুম ও তার বাবা মো. ছালেহ্ উদ্দিন। দুই পক্ষের পালটাপালটি আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এক পক্ষ তার পরিচিত ২/৩ জন সাংবাদিক পরিচয়দানকারি ব্যক্তিকে যুক্ত করতে চাচ্ছে।
ছালেহ্ উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে ডা. সোলায়মান মাসুম। সে একজন বিসিএস ক্যাডার। সেই ছেলের মুখ থেকে পুরো সাংবাদিক জাতিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করবে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ছেলের এ ঘটনার মধ্যে দেখি আমার বিরুদ্ধে স¤প্রতি হঠাৎ একটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রশ্নবিদ্ধ তথ্যের অনুকূলে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সবকিছুই পরিকল্পিতভাবে ঘটে চলছে। যুক্তি দিয়ে ছালেহ্ উদ্দিন আরো বলেন, সাংবাদিকদের বা সাংবাদিক জাতিকে নিয়ে আমার ছেলে কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিষয়টি স্বনামধন্য কোনো সংগঠন বা পত্রিকা কর্তৃপক্ষের মাথা ব্যথা নেই। অথচ কর্মচারী উম্মে হাবিবা ছন্দা ও তার স্বামী সহ তাদের পরিচিত ২/৩ জন সাংবাদিক পরিচয় দেয়া ব্যক্তির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a Reply