বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন
বরিশালের বাবুগঞ্জে আলোচিত রাইসা মনি হত্যা মামলার অভিযুক্ত পিতা-পুত্র অবশেষে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে তারা বাবুগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাবা জালাল শিকদার (৪৫) ও তার ছেলে সিফাত শিকদার (১৫) পলাতক ছিলেন। তারা পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখান থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিয়াজ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে রিয়াজ হোসেনের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার ভোরে তারা বাবুগঞ্জ থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে যুবদল নেতা রিয়াজ হোসেন জানান, রাইসা আক্তারের ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে—বাবার সঙ্গে অভিমান করে সে নিজেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানায়নি পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর রাকুদিয়া গ্রামে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছর বয়সী কিশোরী রাইসা আক্তারকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৭ মার্চ নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় পিতা জালাল শিকদার ও ছেলে সিফাত শিকদারকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উদ্ধার হওয়া চিরকুটের সত্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Leave a Reply