
চাঁদাবাজি ও হামলার প্রতিবাদে বরিশালের সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচাবাজারে কেনাবেচা বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার ভোর থেকে বাজারে সবজি কেনাবেচা হয়নি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলার শিকার হতে হচ্ছে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বাজারে কেনাবেচা বন্ধ রাখবেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশালের এই পাইকারি কাঁচাবাজারটি বিভাগের অন্যতম বড় সবজি সরবরাহকেন্দ্র। প্রতিদিন এখান থেকে বরিশাল নগরসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বাজারে সবজি যায়। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও ট্রাকে করে সবজি আসে এই বাজারে।
প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে বাজারে সবজিবাহী ট্রাক ঢুকতে শুরু করে। ভোররাত থেকে জমে ওঠে পাইকারি কেনাবেচা। তবে মঙ্গলবার সকালে বাজারের চিত্র ছিল ভিন্ন। সারি সারি দোকান থাকলেও ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা। চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা দোকান খুললেও কেনাবেচা বন্ধ রাখেন।
ব্যবসায়ীদের কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। কেউ তা দিতে না চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো বা হামলার অভিযোগও রয়েছে। এতে ব্যবসার পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন তাঁরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের খোঁজ নিতে বাজারে যান মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আল আমিন। তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।
এ বিষয়ে মো. আল আমিন বলেন, ব্যবসায়ীরা তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি দলীয়ভাবে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে জানানো হবে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য বাজার এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বরিশালের পাইকারি কাঁচাবাজারে দেড় শতাধিক স্থায়ী দোকান রয়েছে। এর বাইরে সড়কের পাশে প্রতিদিন আরও প্রায় অর্ধশত অস্থায়ী দোকান বসে। এ বাজারের কেনাবেচা বন্ধ থাকায় বরিশালসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকার সবজি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।