বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
কুকুর-বিড়ালের কামড় বা আঁচড় দিলেই ছুটতে হচ্ছে বরিশাল, ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ কাউখালী পরিসংখ্যান অফিসে জনবল সংকট এক কর্মকর্তাই চালাচ্ছেন পুরো অফিস বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ওএসডিকৃত এসেসর মোয়াজ্জেমের পুনর্বহালের চেষ্টার অভিযোগ হামের টিকার পরিবর্তে শিশুকে দেওয়া হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন অতঃপর… একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খালে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু দিন দিন বাড়ছে নগর, কমছে গৃহকর আদায় বরিশালে আনসার বাহিনীর গাড়ির চাপায় শিশু নিহত, আহত মা; তিন মাসেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ বাবার ধর্ষণের শিকার মেয়ে, মায়ের অভিযোগ ধর্ষক বাবা গ্রেপ্তার ৬ তলা থেকে প্রেমিকার ঝাঁপ
দিন দিন বাড়ছে নগর, কমছে গৃহকর আদায়

দিন দিন বাড়ছে নগর, কমছে গৃহকর আদায়

বরিশাল নগরীতে ভবন বাড়ছে, তবে হোল্ডিং ট্যাক্স (গৃহকর) আদায় বাড়ছে না। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমেছে এই করের পরিমাণ। কয়েক বছরের ব্যবধানে ৪ লাখ টাকার কর কমিয়ে দেড় লাখে নামানো হয়েছে, এমন নথিও পাওয়া গেছে। সূত্র বলছে, এমন পরিস্থিতিতে গত ৩ বছরে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কর ধার্য শাখার কর্মকর্তারা। করপোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে কর শাখার সঙ্গে বসে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

বিসিসির কর ধার্য শাখার তথ্যমতে, নগরীতে ২০২৩—২৪ অর্থবছরে হোল্ডিং সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ২০৭টি। ওই অর্থবছরে গৃহকরের চাহিদা ছিল ৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আদায় হয় মাত্র ৩৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ২০২৪—২৫ অর্থবছরে হোল্ডিং সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ৭৮৫টি। ওই অর্থবছরে গৃহকরের চাহিদা ছিল ৫৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে মাত্র ৪১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। চলতি ২০২৫—২৬ অর্থবছরে নগরে হোল্ডিং সংখ্যা ৫৭ হাজার ৬০৯টি। এ অর্থবছরে গৃহকরের চাহিদা ৬১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ অর্থবছরে মার্চ পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ৩২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরেও কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নামমাত্র কর দিয়ে অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নথি সূত্রে জানা যায়, নগরীর নবগ্রাম রোড করিম কুটির মসজিদ লেনে ১১২৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে ১০ তলা ভবনের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে দুই বছর আগে। এ ভবনে এখনো প্ল্যান পাসের সময়ে ধার্য করা ৭ হাজার ৫৬০ টাকা করই নেওয়া হচ্ছে।

করপোরেশনের কর্মকর্তারাও দিচ্ছেন করফাঁকি। সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান কর নির্ধারক নুরুল ইসলামের মালিকানাধীন ৪ তলা ভবন রয়েছে। তিনি ওই ভবনের জন্য গৃহকর দিচ্ছেন মাত্র ৪০০ টাকা।

নগরের দক্ষিণ জাগুয়ায় প্রাণ—আরএফএল ডোর ভবনের (হোল্ডিং নম্বর ২২০০) ২০১৭—১৮ অর্থবছরে স্থাপনা ছিল অ্যাঙ্গেল স্ট্রাকচার। প্রায় ২৩ হাজার স্কয়ার ফুটের এই স্থাপনার ওপর করপোরেশনের কর ধার্য শাখা ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত কর ধার্য করে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে গত বছর চূড়ান্তভাবে কর ধার্য করা হয় ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

এদিকে ২০২৪ সালের ২৩ জুন রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওষুধ কোম্পানি ইন্দো—বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালের (হোল্ডিং নাম্বার ৭২৯) চূড়ান্ত কর ধার্য হয়েছিল ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ওই স্থাপনার ওপর কর ধার্য হয়েছিল মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

প্রাণ ডেইরির একটি ভবনের (হোল্ডিং নং ২২০১) ২০১৮ সালে চূড়ান্ত কর ধার্য করা হয়েছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে তা হয়ে যায় ২ লাখ ২১ হাজার টাকা।

এই কর কমানো প্রসঙ্গে বিসিসির প্রধান কর কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২২০০ ও ২২০১ নম্বর হোল্ডিংয়ে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ একতরফাভাবে উচ্চ কর ধার্য করেছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর কমানো হয়।

স্থানীয় সরকার আইনে সিটি ও পৌর করসংক্রান্ত আইন এবং উপবিধি—৮ অনুযায়ী ধার্য কর এ হোল্ডিংধারী সংক্ষুব্ধ হলে আদেশপ্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ বোর্ড কর্তৃক ধার্য করের ৭৫ ভাগ পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আপিল করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ চূড়ান্ত আদেশ বলে গণ্য হবে। তবে এ বিধানের তোয়াক্কা না করে নগরের গৃহকর দেদার কমানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, কীভাবে কর কমানো হলো তা খতিয়ে দেখা হবে। নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলা আছে।

প্রধান কর কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের ৪ তলা ভবনের কর মাত্র ৪০০ টাকা শুনে বিস্মিত হন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, করপোরেশনের একটার পর একটা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কর শাখা নিয়ে বসবেন। হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে যত আবেদন পড়েছে অসামাঞ্জস্য থাকলে তা ঠিক করা হবে।

প্রশাসক শিরীন বলেন, কী করে অস্বাভাবিক হারে কর কমানো হলো তা অবশ্যই দেখবেন। বিষয়টি তাঁর নলেজে নেই। কিন্তু করপোরেশনের কোনো স্টাফ যদি কর কমানোর নামে রাজস্ব হারায়, তাহলে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost