
বরিশালের গৌরনদীতে সড়ক ও জনপদের জমি দখল করে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য দেওয়া অফিস আদেশের সাত মাস অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করার অভিযোগ উঠেছে গৌরনদী উপজেলা থেকে সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। এঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও আশোকাঠী বাজারের ব্যবসায়ী কাজী ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিম পার্শ্বে ঢাকা—বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন আশোকাঠী মৌজার সড়ক ও জনপদের জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মান করে আসছেন স্থানীয় হাবিবুর রহমান সরদার। বিষয়টি নিয়ে আমি সড়ক ও জনপদ মন্ত্রণালয় সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সর্বশেষ চলতি বছরের ৮ মার্চ আশোকাঠী এলাকায় সড়ক ও জনপদের জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট উপমা ফারিসা অফিস আদেশ জারি করেন।
অফিস আদেশে বলা হয়, বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী মৌজার এসএ জে.এল. নং—১৩৮, এসএ দাগ নং—২১৬ এ নামজারিকৃত সরকারি খাস জমিতে অবৈধ ভাবে নির্মিত পাকা ভবন/স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রমে ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান কে নিয়োগ করা হলো।
ব্যবসায়ী কাজী ফিরোজের অভিযোগ, অফিস আদেশ দেওয়ার পর আমি একাধিকবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানের কাছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য গিয়েছি বার বার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেননি। সময়ক্ষেপন করে হাবিবুর রহমানকে অবৈধ স্থাপনা নির্মানের সুযোগ করে দিয়েছেন। যে কারনে সড়ক ও জনপদের প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে। কি কারনে, কিসের বিনিময়ে, কার স্বার্থে অবৈধ স্থাপনা নির্মান করতে দিয়েছেন এটা আমাদের আশোকাঠীবাসীর প্রশ্ন?
স্থানীয় জয়নাল সরদার সহ একাধিক বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, এসিল্যান্ড মো. মেহেদী হাসানের সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা নির্মানকারী হাবিবুর রহমানের আতাত আছে। অর্থের বিনিময় আছে। এজন্য সে (এসিল্যান্ড) কাজ করেনি। হাবিব কেন রাতের বেলায় এসিল্যান্ডের সঙ্গে দেখা করেন এই প্রশ্নও তোলেন স্থানীয়রা।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, আমি সড়ক ও জনপদের কোন জমি দখল করি নাই। আমার দাদির জমিতে স্থাপনা নির্মান করেছি। জমি নিয়ে সরকারের সঙ্গে মামলা ছিলো। মামলায় দোতরফা ভাবে রায় পেয়েছি। এমনকি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুন্যালেও রায় পেয়েছি।
এবিষয়ে জানতে সদ্য বিদায়ী গৌরনদী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানের ব্যক্তিগত ০১৭১৬***৭০১ নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যে কারনে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মান করায় হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার গৌরনদী সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে শেষ কর্মদিবস শেষে অফিস ত্যাগ করেছেন মো. মেহেদী হাসান।
তিনি এ উপজেলায় ১ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্বকালীণ সময়ে অভিযোগ রয়েছে, সারা বাংলাদেশে ১/১ (খ) খতিয়ানভুক্ত জমির কাগজপত্র সঠিক থাকলে আবেদনকারীর অনূকূলে নামজারি প্রদান করা হলেও এসিল্যান্ড মেহেদী হাসানের খামখেয়ালীপনায় মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরেও (খ তালিকাভুক্ত) সম্পত্তির নামজারি পাওয়া যায়নি।
একের পর এক তারিখ দিয়ে সময়ক্ষেপন করে সেবা প্রত্যাশিদের ভোগান্তি দিয়েছেন। এমনকি খাল দখলের বিষয়ে তাকে তথ্য দিলে সেই তথ্য দখলকারীর কাছে বলে দিয়ে সংবাদকর্মীদের বিপাকে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এরপূর্বে তিনি ভোলার বোরহান উদ্দিনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও তার বিরুদ্ধে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। যদিও এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।