, , ,
শিরোনাম
বরিশালে ঠিকাদারকে লক্ষ্য করে গুলি, খালে ঝাঁপিয়ে রক্ষা এক ঘণ্টায় শেয়ালের কামড়ে আহত ১১ ঝালকাঠিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কার্যালয় উদ্বোধন ভান্ডারিয়ায় বন বিভাগের ১৩ গাছ কাটার অভিযোগে মামলা তৎকালীন কাউনিয়া থানার ওসি কাজী মাহবুবুর রহমান ও এসআই বসিরের বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ থানায় ঢুকে পুলিশ পেটানো সেই যুবক গ্রেপ্তার কাজিরহাটের আন্দারমানিক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবিএস খান স্বপনের গণসংযোগ উজিরপুরের ধামুড়ায় পলাশ কুন্ডুর সঙ্গে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা পর্যায়ের নেতারা কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীতে বিশেষ অভিযান: সাড়ে সাড়ে তিন হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল জব্দ কেয়ামতের ময়দান থেকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী: উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
এসআইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলা, ৯৯৯-এ ফোনে উদ্ধার ভুক্তভোগী

এসআইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলা, ৯৯৯-এ ফোনে উদ্ধার ভুক্তভোগী

Reporter
প্রতিবেদক : বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে এক যুবককে অপহরণ করে আটকে রাখা, মারধর এবং তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নাজমুল হকের পরিবারের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) ত্রিশাল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত ১১ জুন এ ঘটনা ঘটলেও ত্রিশাল থানা ও ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ করেও তারা কোনও প্রতিকার পায়নি। পরে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করা হয়। সেখানেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হাজির না হওয়ায় আইনি পরামর্শ নিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দেন নাজমুলের পরিবার। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ত্রিশাল থানাকে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ জুন ত্রিশাল উপজেলার বীররামপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হককে ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচ থেকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় এসআই নাহিদ পারভেজের পাশাপাশি স্থানীয় সোহেল মিয়া, ফিরোজ ও অজ্ঞাতনামা আরও চার—পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নাজমুলকে প্রথমে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয় এবং মারধর করা হয়। পরে তাকে অজ্ঞাত একটি স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় নাজমুলের পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯—এ ফোন করে। পরে ওই দিন রাত ২টার দিকে ত্রিশাল থানা থেকে নাজমুলকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে পরিবার জানায়।

পরিবারের দাবি, পরদিন এ ঘটনায় ত্রিশাল থানায় অভিযোগ করা হলেও দুই মাসেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েও তারা প্রতিকার পায়নি।

পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। গত ২ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষকে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও এসআই নাহিদসহ অভিযুক্ত কেউই সেখানে উপস্থিত হননি। ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হওয়ায় পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

নাজমুলের ভাই আজমত বলেন, আমার ভাইকে অপহরণ করে মারধর করার পর কয়েকটি খালি স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তার ফোন দিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বর্তমানে আমার ভাই নাজমুল ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ডিউটি অফিসার রেজাউল বলেন, ৯৯৯—এ অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত নম্বরে ফোন দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অপহৃতকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসেন। এরপর নাজমুলকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহের এসপি কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগের বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। মামলা তদন্তের পাশাপাশি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত এসআই নাহিদ পারভেজের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

পরিবারের দাবি, মামলা করার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এসআই নাহিদ প্রায় দুই বছর ত্রিশাল থানায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে তাকে ময়মনসিংহ সদরের ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost