
মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে না পারায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে হাসপাতালের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।সূত্র জানায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে (৩৯) রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক মাইনুল হাসান।যুবদল নেতা শাকের হোসেনপরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে গোসলের প্রস্তুতিকালে স্বজনরা শাকেরের মাথার পেছনে একটি ছিদ্র দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মরদেহ পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়
।ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৃষ্ণ দাস বিশ্বাস জানান, নিহতের মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর গুলিতে হত্যার বিষয়টি সামনে আসে।প্রাথমিক পরীক্ষায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে না পারার ঘটনায় চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা চিকিৎসক মাইনুল হাসানের বিরুদ্ধে কর্তব্য অবহেলার অভিযোগ আনেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে হাসপাতালের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন ফকির বলেন, ‘যুবদল নেতা শাকের হত্যার কারণ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পারায় চিকিৎসক মাইনুল হাসানকে হাসপাতালের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে।’