
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার এক যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও পরিবারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি, ‘মাফিয়া’ হিসেবে পরিচিত ইলিয়াস ফকিরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াস ফকির গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামের আক্কাস ফকিরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বরিশাল ও মাদারীপুরে একাধিক মানবপাচার মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে র্যাব-৮, বরিশাল এবং র্যাব-১২-এর যৌথ অভিযানে সিরাজগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্রবার গভীর রাতে তাকে গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ তাকে বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠায়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা গ্রামের বারেক বেপারীর ছেলে রাসেল বেপারীকে (২৯) ইতালি পাঠানোর কথা বলে ইলিয়াস ফকিরের সঙ্গে ২০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাসেলের পরিবার দালালচক্রের হাতে ২০ লাখ টাকা তুলে দেয়।
পরদিন ২৪ নভেম্বর রাসেলকে প্রথমে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ে সৌদি আরব, কুয়েত ও মিশর হয়ে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করে মানবপাচারকারী চক্র। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা রাসেলকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও নগদের মাধ্যমে কয়েক দফায় আরও ২৪ লাখ টাকা চক্রের সদস্যদের প্রদান করেন। এরপর গত ১৬ জুন দালালচক্র বিমানে করে রাসেলকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
দেশে ফিরে ভুক্তভোগী রাসেল বেপারী গত ১২ জুলাই বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ইলিয়াস ফকিরসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ইলিয়াস ফকিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস ফকিরের বিরুদ্ধে মাদারীপুর জেলাতেও মানবপাচারের আরও তিনটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াস ফকিরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্য মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবপাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচারের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।