, , ,
শিরোনাম
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর ওপর বখাটের হামলা, ভাঙল ৫ দাঁত উজিরপুরে নেশা—জুয়া ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ, একমাত্র ছেলেকে ত্যাজ্য করলেন বাবা ভাণ্ডারিয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও বিতরন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ভেজাল সার বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, ভোলায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার চুরির অপবাদে মা-ছেলেকে পেটালেন বিএনপি নেতা বিষপানে ইউপি সদস্যের আত্মহত্যা বোরহানউদ্দিনে নিখোঁজের দুই দিন পর শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন, বাধার অভিযোগ বরিশালের ফিলিং স্টেশনে অভিযান।। ওজনে কম দেওয়ায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা
১১ শিক্ষক, ১২ পরীক্ষার্থী-পাস করল মাত্র ১ জন

১১ শিক্ষক, ১২ পরীক্ষার্থী-পাস করল মাত্র ১ জন

Reporter
প্রতিবেদক : অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদের মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এর আগের বছর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও বিদ্যালয়টি থেকে আটজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র একজন পাস করেছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। কাগজ—কলমে বিদ্যালয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর কথা বলা হলেও বাস্তবে নিয়মিত পাঁচ—ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্লাসে দেখা যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যবস্থাপনার মধ্যেও শিক্ষার মানের দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় বিদ্যালয়টির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক—কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৩ জন। তাদের বেতন—ভাতা বাবদ সরকারের প্রতি মাসে তিন লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ শিক্ষক থাকা বিদ্যালয়ে যেখানে এসএসসি পরীক্ষার্থীও ১২ জন, সেখানে পরীক্ষায় পাসের হার এমন হতাশাজনক কেন? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত করা, পড়াশোনায় মনোযোগী করা এবং পাঠদানের মান নিশ্চিত করার দায়িত্বই বা কার?

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, চলতি বছর বিদ্যালয় থেকে ১২ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাস করেছে। গত বছর আটজন পরীক্ষা দিয়ে একজন পাস করেছিল।

এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও কোন গ্রেডে পাস করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন মনে নেই, পরে জানাব।
১১ জন শিক্ষক থাকার পরও ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করায় তিনি দুঃখিত কি না, এমন প্রশ্নে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বলেন, দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং তাদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এমন ফলাফলের কারণ খুঁজে বের করে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক—শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সরকারি বেতন—ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান সবকিছু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও মান ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost