
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ৩৪টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে ২২টি পদই শূন্য রয়েছে। ফলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি কর্মচারীর পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকায় বিদ্যালয় দুটির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে সাধারণ ও অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়লেও সচ্ছল পরিবারের অনেকে সন্তানদের ভালো শিক্ষার জন্য অন্যত্র পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। অভিভাবক নজরুল ইসলাম বলেন, সারাদেশের সরকারি স্কুলে কম—বেশি শিক্ষক সংকট থাকলেও কাউখালীর এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সংকট ভয়াবহ। এভাবে চলতে থাকলে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থাই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অন্য এক শিক্ষার্থী অভিভাবক রাফিজা আক্তার বলেন, শিক্ষকদের খালি পদগুলো দ্রুত পূরণ না করা হলে সন্তানদের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেবে কে?
কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪৫০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়টিতে অনুমোদিত ১৭টি শিক্ষক পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ ১১টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এছাড়া চারটি কর্মচারী পদের সবকটিই খালি রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে বর্তমানে দুজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আকতার হোসেন হাওলাদার বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অতিথি শিক্ষক দিয়ে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩০ জন ছাত্রের বিপরীতে অনুমোদিত ১৭টি শিক্ষক পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র চারজন। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
কাউখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান শিক্ষক সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয় দুটির পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি উল্লেখ করে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ—পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন সংকটের কথা স্বীকার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।