, , ,
শিরোনাম
কাউখালীতে বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেফতার ৩ বজ্রপাত থেকে জ্বালানিমন্ত্রী টুকুর বাসায় আগুন ভুল চিকিৎসার অভিযোগে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু কাউখালীতে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ২ বেকারিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বর্ষায় পানির নিচে থাকে বিদ্যালয়ের মাঠ, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রামে ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত ভূমি অফিসে জেলা প্রশাসনের আকস্মিক অভিযান, অনুপস্থিত দুই কর্মচারী স্ট্যান্ড রিলিজ ৫ দিনের ব্যবধানে স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পরিবর্তন পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন ২০ কবর, হুমকিতে হাজিরহাট বাজার পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ, একই ওয়ার্ডে সাধারণ ও ডেঙ্গু রোগী
মাদক উদ্ধারের পরও সরবরাহ বন্ধ নয়, মঠবাড়িয়ায় প্রশ্নের মুখে অভিযান

মাদক উদ্ধারের পরও সরবরাহ বন্ধ নয়, মঠবাড়িয়ায় প্রশ্নের মুখে অভিযান

Reporter
প্রতিবেদক : মোঃ মনির আকন
প্রকাশিত : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইয়াবা ও গাঁজার পাশাপাশি ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’—এর মতো ভয়ংকর মাদকের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা রয়েছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত ইউনিয়ন—মাদকের কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগে শঙ্কিত স্থানীয়রা। প্রশাসনের অভিযানে বড় পরিমাণে মাদক উদ্ধারের পরও থামছে না এর সরবরাহ। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে তরুণ ও যুবসমাজ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। অলিগলি পর্যন্ত মাদক পৌছে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। তাদের ভাষ্য, সহজে মাদক পাওয়ার সুযোগ থাকায় তরুণদের একটি অংশ ধীরে ধীরে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে তাদের পড়াশোনা, কর্মজীবন ও পারিবারিক সম্পর্কে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

থানা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে পৌরসভার আরামবাগ এলাকায় একটি তালাবদ্ধ ঘরে অভিযান চালিয়ে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। তারা জানিয়েছিলেন উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

এর পর জুন মাসে ঢাকা থেকে মঠবাড়িয়াগামী ‘বিএম লাইন পরিবহন’—এর একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২ হাজার ৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অভিযানে গাজা এবং ইয়াবা থানা পুলিশ উদ্ধার করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চললেও এর বাইরে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তেমন দেখা যায় না। তার দাবি, প্রশাসনের কিছু সদস্যের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের কেউ কেউ মাদক কারবারিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঠবাড়িয়ার একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে এখানে পড়াশোনা করে। কিন্তু মাদকের ছোবলে এখন তার লেখাপড়া নিয়ে শঙ্কায় আছি। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি চাই, মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, অভিভাবকেরা সন্তানকে লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু মাদকের সহজলভ্যতায় সেই সন্তান যখন নেশায় জড়িয়ে পড়ে, তখন পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে যায়। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক তরুণ পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছে, বাবা—মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, শুধু মাদকসেবীদের আটক করলেই হবে না। যারা মাদক সরবরাহ করছে এবং এর পেছনে রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনা করছি। অলিগলিতে মাদক বিক্রি বন্ধে বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বি বলেন, আমি এ উপজেলায় অল্প কয়েক দিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। মাদকের বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর—৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেন, বিগত সরকারের সময়ের তুলনায় কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমেছে। তবে এখনো যে পরিমাণ মাদক রয়েছে, তার বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost