
বরিশাল সদর উপজেলার দপদপিয়া সেতুর নিচে ফের বালু উত্তোলনের অভিযোগে দুটি বাল্কহেড ও একটি লোড ড্রেজার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ড। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া সেতুর নিচে এ অভিযান পরিচালনা করেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা। অভিযানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বিসিজি স্টেশন বরিশাল দক্ষিণ জোনের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে ইউএনও ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় বালুবোঝাই দুটি বাল্কহেড ও একটি লোড ড্রেজার জব্দ করা হয়। আটক করা হয়েছে বাল্কহেডচালক বাচ্চু এবং শ্রমিক আব্দুল জলিল, মো. লিটন ও হুমায়ুনকে। অভিযানের সময় কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
জব্দ করা ড্রেজারটির নাম ‘রিফাজ জাহান ইকরা—১’। প্রায় সাড়ে সাত হাজার ঘনফুট বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের নাম ‘এম—১’ এবং অপরটির নাম ‘এমবি জোবেদা’।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা আল আমিনের মালিকানাধীন এসব বাল্কহেড ও ড্রেজার দিয়ে দপদপিয়া সেতুর নিচে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে জলযানগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর একই স্থানে অভিযান চালিয়ে একই দুটি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজার জব্দ করেছিল প্রশাসন। ওই ঘটনায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পরে জব্দ করা সরঞ্জামগুলো মালিকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এর মাত্র ১১ দিনের মাথায় একই সরঞ্জাম পুনরায় বালু উত্তোলনের অভিযোগে জব্দ হলো।
এ ঘটনায় আগেরবার জব্দ করা সরঞ্জাম কী শর্তে মালিকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল এবং সেই শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড্রেজারের অনুমোদন, বালু উত্তোলনের বৈধ অনুমতি ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
দপদপিয়া সেতুর নিচে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশের ভারসাম্য এবং সেতুর পিলার ও ভিত্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে সেতু ও নদীসম্পদ রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানের পর জব্দ করা বাল্কহেড ও ড্রেজারের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।