
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান যুথি (১৬) হত্যার ঘটনায় তাঁর সাবেক প্রেমিকসহ তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের সাক্ষ্য, মুঠোফোনের কল রেকর্ড ও বিভিন্ন তথ্য—উপাত্তের ভিত্তিতে শনিবার (৭ নভেম্বর) তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কেউ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন যুথির সাবেক প্রেমিক মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন আকাশ (১৬), মো. শুভ ওরফে শান্ত (২২) ও মো. রাশেদ হাওলাদার (১৯)। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাড়ি থেকে বের হয় যুথি। সে সুবিদখালী র.ই. পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং দক্ষিণ ঘটকের আন্দুয়া মাছুয়াখালী গ্রামের জামাল হাওলাদারের মেয়ে। নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, সেদিন সে স্কুলে যায়নি।
নিখোঁজের দুই দিন পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বাড়ির কাছের একটি নালার ভেতর থেকে যুথির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে নালার পাশে তার জুতা দেখতে পান পরিবারের পরিচিত মমতাজ নামের এক নারী। পরে সেখানে খোঁজাখুঁজি করে মরদেহটি পাওয়া যায়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুথির সঙ্গে আরাফাতের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েক মাস আগে তাঁদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। এরপরও আরাফাত তাঁকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে আরাফাতের সঙ্গে যুথির সর্বশেষ মুঠোফোনে কথা হয়। সকাল ৯টার দিকে সে বাড়ি থেকে বের হয়।
এ ছাড়া শুভ ও রাশেদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে যুথিকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব অভিযোগ ও মুঠোফোনের কল রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছে পুলিশ।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, মুঠোফোনের কলের তথ্য এবং উত্ত্যক্ত করার অভিযোগের সূত্র ধরে তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে ধর্ষণ বা অন্য কোনো অপরাধ জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।