বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

বরিশালে আনসার বাহিনীর গাড়ির চাপায় শিশু নিহত, আহত মা; তিন মাসেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ

বরিশালে আনসার বাহিনীর গাড়ির চাপায় শিশু নিহত, আহত মা; তিন মাসেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ

বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় আনসার বাহিনীর একটি গাড়ির ধাক্কায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার মা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বিচারিক অগ্রগতি হয়নি।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের বাংলাদেশ বেতার রেডিও সেন্টার ও র্যাব-৮ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে বলা হয়, আনসার বাহিনীর একটি গাড়ি, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর “ঢাকা মেট্রো-উ-১১-৭৬৩৭”, বেপরোয়া গতিতে চলাচলের সময় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিরাজুল ইসলাম (৫৮) নামের এক চালক। এতে মোটরসাইকেলে থাকা ১১ বছর বয়সী এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। শিশুটির মা গুরুতর আহত হন এবং মোটরসাইকেল চালকও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর প্রথমদিকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ তিন মাসেও সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কিংবা ন্যায়বিচারের কোনো অগ্রগতি তারা দেখতে পাননি বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা, চাকরির আশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, চালক সিরাজুল ইসলাম মামলা নিষ্পত্তির জন্য ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা অভিযুক্ত চালক সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে আনসার বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারাও বিষয়টি এড়িয়ে যান।

পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর শোকাহত অবস্থায় তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর থেকে আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তারা।

দায়িত্বশীল বাহিনীর যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছে, “আমরা শুধু সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ চলে গেছে, একজন মা আজও কষ্টে আছেন। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বিচার পাইনি।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost