মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে বাদীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ। এরপর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস। কখনো গাড়িভাড়া, কখনো তদন্ত খরচের কথা বলে নেওয়া হতো দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এভাবে প্রতারণার অভিযোগে মো. মোজাম্মেল হক ওরফে কবির (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।
পিবিআই বলছে, গ্রেপ্তার মোজাম্মেল বিভিন্ন মামলার বাদী ও বাদিনীর মোবাইল নম্বর এবং মামলার আর্জির কপি সংগ্রহ করে তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তাদের পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা নিতেন।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের রাউজান থানায় এ ঘটনায় মামলা হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকা থেকে মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই রবি চন্দ্র দাশ কালবেলাকে বলেন, আমার নেতৃত্বে একটি দল গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং তার সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
মামলার এজাহার ও পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতারণার শিকার এক বাদীর সঙ্গে মোজাম্মেল নিজেকে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গাড়িভাড়া ও তদন্ত খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে বিকাশে চার হাজার টাকা নেন।
তদন্তে পিবিআই আরও জানতে পেরেছে, মোজাম্মেল একসময় ইউনিলিভার গ্রুপে চাকরি করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাকরি চলে গেলে তিনি আদালতে যাতায়াত শুরু করেন এবং মহুরির কাজ করতেন। এ সময় চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার তথ্য, বাদী—বাদিনীর মোবাইল নম্বর ও মামলার আর্জির কপি সংগ্রহ করতেন বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।
এসব তথ্য ব্যবহার করে তিনি কখনো নিজেকে পিবিআই, কখনো সিআইডি বা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার বাদীদের ফোন করতেন। এরপর মামলার তদন্ত তাদের পক্ষে নেওয়া বা প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইতেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই রবি চন্দ্র দাশ বলেন, এ ঘটনায় আদালতের কেউ তার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় করা মামলায় দণ্ডবিধির ১৭০, ৪১৯, ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।