, , ,
শিরোনাম
সড়ক খুঁড়ে ফেলে রেখে ঠিকাদার উধাও, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ ভোর হলেই বিয়ে, গায়ে হলুদের রাতে বরের মৃত্যু ড্রেনের পাশে মিলল জীবিত নবজাতক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা ভাণ্ডারিয়ায় নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রিতে ব্যাবসায়ীকে জরিমানা ঝালকাঠিতে শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, বাতিলের আশ্বাসেও টালবাহানা! বামনার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মুলাদীতে মাদকবিরোধী কথা বলায় মারধরের অভিযোগ, ফেরিঘাটে মৃত্যু গ্রেফতার হয় কিশোররা, ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘বড়ভাইয়েরা’: কীভাবে ভাঙবে চক্র? ঢাবির সিনেট নির্বাচন: বরিশালে স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান ববি উপাচার্য
ভোর হলেই বিয়ে, গায়ে হলুদের রাতে বরের মৃত্যু

ভোর হলেই বিয়ে, গায়ে হলুদের রাতে বরের মৃত্যু

Reporter
প্রতিবেদক : বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

‘আজ গায়ে হলুদ’, রাত পোহালেই বিয়ে। বরকে বরণ করে নিতে কনের বাড়িতে তৈরি করা হয়েছিল আলোকসজ্জিত গেট, সাজানো হয়েছিল বাড়িঘর। বরের বাড়িতেও চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। দুই পরিবারে বইছিল আনন্দের হাওয়া।

কিন্তু সেই আনন্দের দিনেই নেমে এলো শোকের ছায়া। বিয়ের আগের দিনই না—ফেরার দেশে চলে গেলেন বর আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক (২১)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সৌমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানিপাড়ায় তার বাড়িতে শুরু হয় কান্না আর আহাজারি। যে বাড়িতে বিয়েকে ঘিরে চলছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, সেই বাড়িতেই স্বজনদের চোখে এখন অশ্রু।

কনের বাড়িতেও আনন্দের বদলে নেমে এসেছে শোক। সৌমিকের বিয়েকে ঘিরে দুই পরিবারের কত আয়োজন ছিল। কনের বাড়িতে তৈরি করা হয়েছিল আলোকসজ্জিত গেট, সাজানো হয়েছিল বাড়িঘর। পরদিন নতুন বউকে বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা। কিন্তু একটি মৃত্যুসংবাদ মুহূর্তেই থামিয়ে দিল সব আয়োজন। যে দিনটি হওয়ার কথা ছিল আনন্দের, সেই দিনটিই হয়ে উঠল দুই পরিবারের জন্য শোকের।

সৌমিক শুধু একজন হবু বরই ছিলেন না, ছিলেন পরিবারের স্বপ্ন ও প্রত্যাশারও অংশ। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।

সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা জানান, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন তার ভাই। গত চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সকাল ৯টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত বেসরকারি মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়।

শারমিনের অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বেলা ১টার দিকে চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন মুরাদ তাকে ব্যবস্থাপত্র দেন। পরে ওষুধপত্র নিয়ে সৌমিককে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন স্বজনেরা। হয়তো তখনো পরিবারের সদস্যদের মনে ছিল সুস্থ হয়ে উঠবেন সৌমিক, ফিরে আসবে বিয়ের আনন্দ।

কিন্তু বিকেলের দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারমিনের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় বসে থাকতে হয় সৌমিককে। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিয়ের আগের দিন সৌমিকের এমন মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost