, , ,
শিরোনাম
উজিরপুরে যুবদল কর্মীকে হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ চাচার স্বর্ণ চুরি করে গাড়ি কিনে উদ্বোধনে তাকেই ডাকলেন ভাতিজা রাজনৈতিক চাপের কাছে ইসি অসহায়: গোলাম পরওয়ার বিমানবন্দর চালুর ঘোষণার পরই রিয়াদে ফের বিস্ফোরণ ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর বালিকা বিদ্যালয়ে মাত্র ১১ শিক্ষার্থী! যুবদল কর্মীকে হত্যা: ৩ আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ পতিত শক্তিকে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেব না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নোয়াখালীতে ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দুজন গুলিবিদ্ধ, একজনের মোটরসাইকেল ছিনতাই শিশুকে যৌন নির্যাতন, সেই মাদ্রাসা শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার চার্জশিট গ্রহণ
১২ শিক্ষক-কর্মচারীর বালিকা বিদ্যালয়ে মাত্র ১১ শিক্ষার্থী!

১২ শিক্ষক-কর্মচারীর বালিকা বিদ্যালয়ে মাত্র ১১ শিক্ষার্থী!

Reporter
প্রতিবেদক : বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

১২ জন শিক্ষক—কর্মচারী মিলে পরিচালনা করছেন বিদ্যালয়, তবে পুরো প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী মিলল মোটে ১১ জন! সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ বেতন—ভাতা হিসেবে খরচ হলেও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ‘পল্লীমঙ্গল বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’—এ শিক্ষার পরিবেশ বলতে কিছুই নেই। শিক্ষক—কর্মচারীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইব্রেরিতে অলস সময় পার করছেন, আর হাজিরা খাতায় কাল্পনিক শিক্ষার্থীর নাম বসিয়ে চলছে সরকারি অর্থের অপচয়।

১৯৯৫ সালে উপজেলার শিকদারমল্লিক ডাকঘরের অধীনে নৈলতলা এলাকায় পূর্ণশ্রী রায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠার তিন দশক পর এসে বিদ্যালয়টির শিক্ষাকার্যক্রম কেবল কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সরজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত প্রধান শিক্ষক। তবে সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে লাইব্রেরিতে হাজির হন প্রধান শিক্ষক জ্যোতি প্রকাশ রায়। এর আগে অন্য শিক্ষক—কর্মচারীদেরও শ্রেণীকক্ষে না গিয়ে লাইব্রেরিতে অলস আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা যায়।

প্রধান শিক্ষক মুখে ৩৫ জন ছাত্রী রয়েছে বলে দাবি করলেও হাজিরা খাতায় নাম পাওয়া যায় ২২ জনের। তবে সরেজমিনে ঘুরে পুরো স্কুলে মাত্র ১১ জন ছাত্রীকে পাওয়া গেছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, আমাদের ক্লাসে আমরা ৯ জন সহপাঠী আছি, আমি সবার নামও বলতে পারি। কিন্তু আজ ক্লাসে মাত্র ৫ জন। অথচ তাদের হাজিরা খাতায় নাম তুলে রাখা হয়েছে ৮ জনের।

সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, বছরের শুরুতে আমাদের সাথে ৭ জন সহপাঠী ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা ৫ জন আছি এবং প্রতিদিন এই ৫ জনই ক্লাসে উপস্থিত থাকি।

অষ্টম শ্রেণিতে উপস্থিত পাওয়া যায় মাত্র একজন ছাত্রীকে। ওই ছাত্রী জানায়, আমাদের শ্রেণিতে মাত্র চারজন শিক্ষার্থী আছে। হাজিরা খাতায় দেখা যায়, ৭ জনের নাম লেখা। আমাদের পুরো স্কুলে সব মিলিয়ে ১৪ জনের বেশি ছাত্রী নেই।

নয়ন মণ্ডল নামে এক শিক্ষক বলেন, স্কুলে ২২ ছাত্রী আছে হাজিরা খাতায় এখন আর আগের মতো বেশি ছাত্রী দেখানো যায় না।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য ও খাতার জালিয়াতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি প্রধান শিক্ষক জ্যোতি প্রকাশ রায়। উল্টো নিজের দায় এড়াতে ও অনিয়ম ঢাকার চেষ্টায় তিনি বলেন, এই স্কুলটি সরকারের বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ, কারণ সরকারের এখানে অর্থ ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, শিক্ষকদের অবহেলার কারণে আজ এই নামকাওয়াস্তে স্কুলের এই অবস্থা। সরকারের লাখ লাখ টাকা প্রতি মাসে বেতন হিসেবে যাচ্ছে, অথচ শিক্ষকরা লাইব্রেরিতে অলস আড্ডা দিয়ে দিন পার করছেন। ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে এভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করা এক ধরণের জঘণ্য অপরাধ। আমরা অবিলম্বে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী শিক্ষকদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost