ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে রাস্তা পারাপারের সময় বেপরোয়া একটি বাসের ধাক্কায় মো. ইউনুস (৬০) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশালগামী ফেমা পরিবহনের একটি বাস ইউনুসকে চাপা দিলে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত ইউনুস আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক কর্মচারী ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করতে গেলে গৌরনদী হাইওয়ে থানার পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান শরীফ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, বাসটি থানায় নেওয়ার সময় ১৫-২০ জন যুবক বাধা দেন এবং পরে হান্নান শরীফ ঘটনাস্থলে এসে বাস ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরে খবর আসে আহত ইউনুস মারা গেছেন। এরপর অভিযুক্তরা সরে যান। তবে সুরতহাল প্রতিবেদন ছাড়াই নিহতের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় পাঠানো হয়েছে, যা আইনবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নিহতের পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা করে বাসটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। পরে পুলিশ আশোকাঠি পেট্রলপাম্প এলাকা থেকে বাসটি আটক করে।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা জহির সাজ্জাদ হান্নান শরীফ বলেন, বাসটি শরীয়তপুর থেকে ৬২ জন রোগী নিয়ে বরিশালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর পুলিশ চালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে স্থানীয়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি দাবি করেন, পুলিশের কাজে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
নিহতের স্বজন মো. মিন্টু বলেন, “মানুষ মারা গেছে, অথচ আইন প্রয়োগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে এখনো দাফন সম্পন্ন করা যায়নি।”
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। তিনি বলেন, “পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া অন্যায়। এ ধরনের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
গৌরনদী হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বাস আটককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, সুরতহাল প্রতিবেদন ছাড়া মরদেহ সরিয়ে নেওয়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত নিহত ইউনুসের দাফন সম্পন্ন হয়নি বলে পরিবার জানিয়েছে।
Leave a Reply