শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের ভাতিজা সোলায়মান সাদিকের সহযোগীদের হুমকিতে ১০দিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নীল রতন সরকারকে। হাসপাতালের ঠিকাদারি কাজ পেতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির হস্তক্ষেপে ডা. নীল রতন শনিবার কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। সকাল ১০টার দিকে কর্মস্থলে ফিরে সমকালকে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ডা. নীল রতন ১৫ এপ্রিল পাথরঘাটা ছেড়ে যান। আগের রাতে হাসপাতাল চত্বরের বাসভবনে ঢুকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে ভীতিকর অবস্থা করেছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম শরীফ। এতে ভীতসভ্রন্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে কর্মস্থল ছাড়েন তিনি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির বড় ভাই মতিউর রহমানের ছেলে সোলায়মান। তার দলীয় কোন পদ নেই। তবে, বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তিনি পাথরঘাটায় ‘প্রভাবশালী’ হিসেবে আভির্ভূত হয়েছেন। ছাত্রদল নেতা খাইরুল তার আস্থাভাজন।
ডা. নীল রতন জানান, হাসপাতালের রোগীর খাবার, কাপড় ধোয়া, ষ্টেশারিজসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহে গত ২৫ মার্চ দরপত্র আহবান করাহয়। জমা পড়া দরপত্রে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় পথ্য ও ধৌত কাজের দরপত্র বাতিল এবং পুন:দরপত্র ডাকা হয়েছে। ষ্টেশনারিজ সরবরাহে সর্বনিম্ন দরদাতা বরগুনা সদরের হাসানুজ্জামান কাজটি পান। এতে ক্ষুদ্ধ হন ছাত্রদল নেতা খাইরুল। তিনি বিষয়টি চিফ হুইপের ভাতিজা সোলায়মানকে জানান। সোলয়মান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোন করে ওই কাজেরও পুন:দরপত্র আহ্বান করতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে খাইরুলের নেতৃত্বে কয়েকজন ওই কর্মকর্তার বাসায় ঢোকে। তারা অকথ্য গালাগালাজসহ তাকে পাথরঘাটা ছেড়ে যেতে বলে।
সংশ্লিস্ট সুত্রগুলো জানিয়েছে, হাম—রুবেলা টিকা কার্যক্রম তদারকিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান গত মঙ্গলবার বরগুনাতে যান। জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার পাথরঘাটার বিষয়টি তাকে জানান। তখন যুগ্ন সচিব পাথরঘাটায় গিয়ে সরেজমিনে তথ্য নেন। এরপরই মন্ত্রাণালয় থেকে চিফ হুইপের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ফেরার পরিবেশ তৈরি করা হয়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তার করা অভিযোগ অস্বীকার করে খাইরুল ইসলাম শরীফ বলেন, আমি ১৪ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে যাননি। আমি দরপত্রে অংশও নেইনি। দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসব মিথ্যাচার করছেন।
চিফ হুইপের ভাতিজা সোলায়মান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ফোন দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে তাকে ফোন দিয়েছিলাম। দরপত্র নিয়ে কথা হয়নি। আমি পাথরঘাটায় ঠিকাদারী করি না। কারও জন্য সুপারিশও করি না।
Leave a Reply