শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

বরিশালে হানি ট্রাপের সদস্য পুলিশের খাচায়

বরিশালে হানি ট্রাপের সদস্য পুলিশের খাচায়

সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের মাধ্যমে বরিশাল জজ কোর্টের এক আইনজীবীকে ফাঁসানো ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাজরিন জাহান ইভা (৩৭) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার বাদী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আইনজীবী এসএম তৌহিদুর রহমান সোহেল। গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে তিনি বরিশালের বিজ্ঞ সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক শরমিন জাহান (জেলা ও দায়রা জজ) কোতোয়ালী মডেল থানার ওসিকে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলার জিআর নম্বর ৩১৬/২০২৬।

মামলায় আসামি করা হয়েছে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া যাত্রকাঠা বৈরকাঠি গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে তাজরিন জাহান ইভা, বানারীপাড়া উপজেলার ডাকবাংলা রোড এলাকার সুলতান হোসেনের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৪২), মো. আসাদ (৫৭), মো. ফিরোজ (৪৭) ও মারিয়া বেগম (২৬)-কে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তাজরিন জাহান ইভা ও মো. সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন সময় তার চেম্বারে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে আইনগত পরামর্শ নিতে আসতেন। তিনি জানতেন না যে, তারা সংঘবদ্ধ হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সাংবাদিকতার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

বাদীর অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা তার ও তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য ভিডিও আকারে ধারণ করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার করে। গত ৮ ও ৯ মে নাগরিক বরিশাল, বরিশাল সংবাদ ও ক্রাইম জোন ২৪ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ফটোকার্ড প্রচার করা হয়। এমনকি তার অনুমতি ছাড়াই ফেসবুক আইডি থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আরও বলা হয়, আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ব্যাপক মানহানি ঘটায়। এক নম্বর আসামি তাজরিন জাহান ইভা নিজেকে বাদীর স্ত্রী দাবি করে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন আইনজীবী সোহেল।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব পোস্ট ও সংবাদ অপসারণের জন্য যোগাযোগ করা হলে আসামিরা তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে আরও মানহানিকর তথ্য ও সংবাদ প্রচারের হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল থানাকে জানালে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিহির চন্দ্র দাস অভিযান চালিয়ে সদর রোড এলাকা থেকে তাজরিন জাহান ইভাকে গ্রেফতার করেন। পরে শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost